প্রথম পাতা > জীবনযাপন > দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না

দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না

Rudranil-Bitan

দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না
যে যা করে দেখি ভাই, সুবিধাটা নিয়ে যাই
ধুম করে প্রকাশ্যে আসি না
দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না
রাজনীতি, দলাদলি কিংবা সে কোলাকুলি
যে যা খুশি হয়ে যাক, দুনিয়া চুলোয় যাক
আমি টু শব্দটি করি না
বারান্দা থেকে আমি নামি না
দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না

এইতো কদিন আগে, ঝড়ে সব এলোমেলো
আলো জল চলে গেল
লোকজন খচে গিয়ে অবরোধ করে দিল
ঠিক কদিন পর সব ওকে হয়ে গেলো
টুক করে ঘরে দেখি এসি টিভি অন হলো
হোত্জোতি(?) বাবারে এতো কি উচিত ছিল?
যদিও বা এতো শত বুঝি না
বারান্দা থেকে আমি নামি না
দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না।

করোনার মাছ কাচি, বউয়ের শাড়ি ধুই
মাঝে মাঝে আমি করি রান্না
কে কোথায় মরে গেল, কার ঘর ভেঙে গেল
পুষায় না অত শত কান্না
বারান্দা থেকে আমি নামি না
দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না

এবার দুর্গাপূজো নম নম করে হবে
জামা জুতো কাউকেই দেবো না
চাঁদা চাইতে এলে ১০ টাকা গুঁজে দিব
কারো আবদার কানে নেবো না
তবু ত্রাণের ১০০ টাকা কেড়ে নিল ছেলেরা
পাশে শালা ছিল বলে দিয়েছি
আমার ঝামেলা নিয়ে আমি আছি চুপচাপ
কারো থেকে কোন কিছু চেয়েছি?

ভাবুক দেশের কথা দেশের নেতারা সব
ঝড়, জল, করোনা ভাইরাস
ভোট দেওয়া ডিউটি, আমি সেটা করে দিই
আমি কি বিলিয়ে দেব বারো মাস?
তোমায় আপন ভাবি, তাই খুলে বলছি
আজকাল কারো সাথে মিশি না
পাড়া প্রতিবেশী আমি কারো বাড়ি যাই না
খাওয়া দাওয়া এমন কি হিসি না
ফেসবুকে কেস খাবো ভুল কিছু লিখলে
তাই ফুল ছাড়া কোন ফটো দেই না
দিন কাল ভালো না, নিজেরটা বুঝে নাও
তর্কেও কারো সাথে লেগো না

শুধু পাড়ায় এমএলএ এলে
ছুটে গিয়ে হাত নাড়ি
হাসিমুখে থাকি, কিছু বলি না
সব বেটা ভেবে মরে, আমি তাকে ভোট দেব
বারান্দা থেকে তবু নামি না
দাদা আমি সাতে পাঁচে থাকি না

জানি তুমি বলবে, আমি হাড় বজ্জাত
লাভ নেই কানে বেশি শুনি না
দুবছর হয়ে গেলো এভাবেই চলছে
ডাক্তার খরচও করি না
বারান্দা থেকে আমি নামি না
দাদা আমি সাতে পাঁচে …

এই কবিতা আর তার আবৃত্তির Performativity নিয়ে কিছু বলার দরকার হয় না। কবিতা মানেই যে রহস্য আর ব্যাখ্যা লাগে বিষয়টি সব সময় সেরকম নাও হতে পারে। এই কবিতার ভেতরেই কবিতার সবিশেষ তাৎপর্য বর্ণিত আছে। নিজেদের নিয়েই যারা ব্যাস্ত, নিজেদের কথাই শুধু ভাবে যারা, কিন্তু সুবিধাটা আবার ঠিকি নিয়ে যায় অন্য মানুষদের কাছ থেকে আর সমাজ থেকে তাদের স্বরূপ এই কবিতায় তুলে ধরা হয়েছে। আমিও সেই স্বরুপ উন্মোচিত দলের একজন।

বহুরূপী, স্বার্থপর ব্যাক্তিদের নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন রুদ্রনীল ঘোষ। রুদ্রনীল ঘোষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা। তার আবৃত্তি দেখে ছোট্ট বিতান কবিতাটি আবৃত্তি করে। বিতানের আবৃত্তি অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছে ইতোমধ্যে। রুদ্রনীলও বিতানের আবৃত্তি, বলার ভঙিতে মুগ্ধ হয়ে তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিতান পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটির ছেলে। নয় বছরের বিতান ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

আসলেই আমাদের সমাজ এখন এ ধরনের মানুষে পূর্ণ। বাচ্চাদেরকে আমরা কীভাবে গড়ে তুলছি সে প্রশ্ন কিন্তু সামনে চলেই আসে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
বিকুল
বিকুল
স্বপ্ন দেখে জীবন পার করে দিচ্ছি। মানবসৃষ্ট অনেক কিছুই আমার ভালো লাগে না। যে বিষয়গুলো ভালো লাগে, সেগুলো আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছি। সারা বিশ্ব ঘুরে দেখতে চাই। কিন্তু পকেটে টাকা নেই :(

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?    আজই লিখুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *