প্রথম পাতা » লেখা » বাদুড়ের হিজরত

বাদুড়ের হিজরত

বাদুড়ের হিজরত

ফরিদপুর জেলার আল্ফাডাংগা উপজেলার বৃটিশ আমলের একটি সম্ভ্রান্ত প্রাসাদ দেখার সুযোগ হলো। প্রাসাদের পাশে বাদুড়ের জন্য একটা দ্বিতল স্পাতের বাড়ি বানানো আছে। দেখলাম বাড়িতে কেউ নেই, মানে বাদুড়ের বাড়িতে । তবে বেশ কিছুদিন আগে
হাজার হাজার বাদুড়ের বসত ছিল এই বাড়িতে। এই পুরুনো জমিদার বাড়ির জলসা ঘরে, শোবার ঘরে, নামাজের ঘরে, দরবারে, নর্তকীর গোপন কক্ষে অন্তর্বাস যামিনী কামনাময় ফর্সা রমনীদের একেবারে অসূর্যম্পশ্যা কুঠুরিতে অবাদ বিচরণ ছিল তাদের।

যখন জমিদার বাড়ির সকল মানব প্রান বৃটিশ বিদায়ের সাথে সাথে কেউ ইউরোপ, আমেরিকা চলে গেল। তিনশত বছর পর রেখে যাওয়া জনক জননীর মধ্যে এই পুরুনো জমিদার বাড়ির সংস্কারের দাবী উঠে। তাই হলো। বিষন্ন হলো শিশুরা পক্ষি, প্রেমিক! বাদুড়ের এ অভায়ারন্য বসতের কথা ভেবে ভেবে তাদের মন খারাপ হলো । গোলটেবিল আলোচনায় যোগ হলো কর্তা, কন্যা, শিল্পী, শিল্পপতিও। পরামর্শ নেওয়া হলো পশু দপ্তর থেকে। তৈরি করা হলো বাদুড়ের জন্য দ্বিতল স্পাতের ঘর। কাধি কাধি কলা, ছুলা বুট, বাদুড়ের খাদ্যাভ্যাসে যা আছে সব নিয়মিত দেওয়া হলো। কিন্তু সুপার পাওয়ার আভিমানী বাদুড় গুলো স্পাতের বাড়িটাকে নিজের বসতের মত করে ভাবতে পারলো না।

তাদের ইকোসিস্টেম, ইকোলোকেশন দারুনভাবে ব্যাহত হলো, মিলন প্রক্রিয়ায় ছন্দ পতন হলো। এরপর কি ভিষণ ব্যাথা নিয়ে বাদুড় গুলো একসাথে হিজরত করলো অজানা গন্তব্যে। কোন জংগল কিংবা গুহা খুজে পেতে! স্পাতের এই দ্বিতল বাড়িতে বাদুড়ের ছিল না প্রেম গোপনীয়তা!

স্তন্যপায়ী কাম ও প্রজননে অবস্ত ছিল বাদুড় দম্পতি ! শিশু জন্ম দেয়, দুধ পান করায়, বেড়ে উঠে বাস্তসংস্থানে। বসত হারানো মানুষের মতই তাদের মন খারাপ হলো খুব।সুন্দর সুন্দর মানুষ আর মানুষ এবং মানুষ গুলোর পরিপাটি আর চাকচিক্য দেখে বাদুড় গুলো কি ভাবলো কে জানে। বিপুলা আশ্চর্য স্তন্যপায়ী, এরা ইদুর ও শুকুরের মিশেলে অতি খুদ্র প্রাণী। এত খুদ্র দেহ নিয়ে বেচে থাকে চল্লিশ বছর, পৃথিবীর বিশ শতাংশ এরা।নিশাচর অদ্ভুত জীবন তাদের।বহু বছর বেচে থাকার যে রহস্য মানুষ জেনে গেলে মানুষ হয়ত পাচশত বছর বাচার কৌশল জেনে যাবে। শস্য বন্ধু ওরা, ফুল ফোটায় পরাগায়নের বীজ ছড়ায় অগণিত।
প্রাণী বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যাচ্ছে।

লেখা থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

সিকান্দার জহির
আল্ফাডাংগা, ফরিদপুর।

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *