প্রথম পাতা » মতামত » অন্যের সফলতা দেখোর আনন্দ

অন্যের সফলতা দেখোর আনন্দ

success

অন্যের সফলতা দেখে যদি তোমার ভালো লাগে, তবে বুঝবে—তুমিও সফলতার যোগ্য হয়ে উঠছো। কারণ সফলদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই এগোতে হয়। পৃথিবীতে কেবল পরিশ্রমে সফলতা আসে—এমন উদাহরণ খুব কম। সফলতার পেছনে থাকে বাবা–মায়ের দোয়া, ভালো কাজের চেষ্টা, সরল মনের আকুতি এবং সর্বোপরি আল্লাহর ইচ্ছা।

তুমি হয়তো অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে, আর কেউ কম চেষ্টা করেও সফল হলো। নিজের ব্যর্থতার কারণ খুঁজে দেখো—হয়তো অন্যের সফলতা সহ্য করতে না পারার দোষও সেখানে আছে। ঈর্ষা চিন্তাকে নোংরা করে, আর নোংরা চিন্তা ভাগ্যের দরজা বন্ধ করে দেয়।

মানুষের পরিকল্পনা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা আল্লাহর পরিকল্পনার সাথে মিলে যায়। কাউকে কষ্ট দিয়ে, বদদোয়া নিয়ে, কিংবা শত্রুতা বুকে ধরে কেউ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সফলতা পাওয়া যতটা বড়—সফলতাকে ধরে রাখা, কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শান্তিময় জীবন যাপন করা—এসব আরও বড়।

অন্যের জন্য নিঃস্বার্থ দোয়া করতে পারা—এটাই নিজের ভাগ্যের দরজা খুলে দেয়। কখনো কখনো অযোগ্য মনে হওয়া কেউ অনেক কিছু পেয়ে যায়; আবার অনেক কিছু না পাওয়ার মধ্যেও কারও জন্য কল্যাণ থাকে। আল্লাহর হিকমত গভীর—চোখে দেখা আর সত্য উপলব্ধি এক নয়।

বাবা–মায়ের সন্তুষ্টি সফলতার সহজতম ও শক্তিশালী পূর্বশর্ত। বড়দের সম্মান না দিয়ে কিংবা ছোটদের প্রাপ্য না ফিরিয়ে কোনো অর্জন হয়তো হাতে আসবে, কিন্তু টিকবে না। এতে আয়ের বরকত হারিয়ে যাবে, রিজিক সংকীর্ণ হবে, মন অশান্তিতে ভরে যাবে।

হিংসা–ঈর্ষা নিয়ে অর্থ কামানো যায়, কিন্তু মনের ধনী হওয়া যায় না। কেউ বড় চাকরি করেও ছোট মানুষ থাকে, আবার কেউ কম করেও বড় মানুষ হয়ে ওঠে। সম্মান আসে সরলতা, সততা, চরিত্রের আলো থেকে—ভয়ের সালাম নয়, হৃদয়ের শ্রদ্ধা থেকেই সত্যিকারের মর্যাদা জন্মায়।

অপরের কল্যাণ কামনা করলে শুভের সিংহভাগ নিজের ভাগেই ফিরে আসে। আর আগ বাড়িয়ে কিছু কেড়ে নেওয়া—এগুলো টেকে না; সুযোগ পেলেই হাত ফসকে যায়।

সহজ-সরল, সৎ জীবন যাপন কর—মনের তৃপ্তি পাবে। লোভের চেইন কখনোই শেষ হয় না; যত বাড়ে ততই মানুষকে বন্দি করে ফেলে। বর্তমানকে ঠিকভাবে বাঁচো—সামনের দিন আল্লাহর হাতে।

মানুষ চেষ্টা করবে—ধৈর্যের সাথে। সাহায্য চাইবে—নম্রতার সাথে। কারণ যোগ্য মানুষ তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না। সবাই ধীরে ধীরে স্বপ্নের সিঁড়িতে ওঠে। কিন্তু সত্য যদি সঙ্গী না হয়—সে সিঁড়ি মাঝপথেই ভেঙে পড়ে।

রাজু আহমেদ,  প্রাবন্ধিক।
Raju69alive@gmail.com

মতামত থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

রাজু আহমেদ
প্রাবন্ধিক।

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *