যে ফুলে বসেনি কোনদিন সাতরঙা প্রজাপতি,
মধুলেহী, মধুব্রত, মধুভৃৎ লুটেরা মধুমক্ষিকা; কীট-পতঙ্গ।
লাগেনি উদাস বৈরাগীবাতাসের স্পর্শ-শিহরণ কিংবা
রাতের নিয়রের শরীরঘষা ভালোবাসা, আদরে চুয়েপরা প্রেম।
সে ফুল দেখেনি পরিপক্বতার মুখ, ফসল ফলানোর দিন; কোনদিন।
যে নদীতে চলেনি পালতোলা নৌকা, যৌবনের অপূর্ব দ্যুতি, গতিময় জীবন।
খেলেনি দুরন্ত বালিকা ডুবসাঁতারে জলগোল্লা, গাঙবউচি
ভরা বর্ষায় ছোটা প্রমত্তক মেঘনার মতো ফেঁপে ওঠা
যৌবনে যুবতী হাঁসের পেছনে ছোটেনি স্বরভাঙা হাঁস;
জলের সুতীব্রহিমশীতল মায়ায় বাঁধেনি মাছেরা ঘর, স্বপ্ন-সংসার।
সে নদী দখলে নিয়েছে জগদ্দল শৈবাল,
সন্ন্যাসী গালের মতোন আনিম্নতল লম্বিতজটের কচুরি পানা,
মরাস্রোতের ভাসন্ত বালি জমে একবুক দুঃখচর।
যে কৃষক জানে না কর্ষণের আনন্দ,
দীর্ঘ অভিজ্ঞ কর্ষণে দৃপ্তশক্ত লাঙলে লণ্ডভণ্ড মৃত্তিকায়
ঘর্মাক্ত শরীর নিঙড়ানো শরীরী পরিতৃপ্তি; আত্মসুখ।
নতুন ফসলের ঘ্রাণে পৃথিবীতে আনা অফুরন্ত সমৃদ্ধদিন
পরিতৃপ্ত আহারে নিশ্চয়তা; প্রজন্মান্তরের বুনিয়াদ।
সে কৃষক উনপুরুষ, নপুংসক; অক্ষমতার চাদরে ঘেরা।
যে শিশু পায়নি তার পিতার নিরাপদ বুকের ঠাঁই,
মায়ের স্নেহময় হৃদয় জমিন, শাড়ির আঁচল
মহীরুহ বৃক্ষের তলায় জন্মানো শাখার নাগাল না পাওয়া লতার
সাদাটে, প্যাঁচানো জীবন তার।
যে নারী পায়নি কবির ভালোবাসা, সুতীব্র প্রেম; আলিঙ্গন
সে নারী জানেনি কোনদিন তার হৃদয়, জানেনা প্রেম!
চেনেনি সে নারী নিজের শরীর, নিজেকে কখনো।
দেখেনি সে নারী প্রেমিকের চোখের তারায় নিজের সৌন্দর্য, শরীরী অবয়ব
পৃথিবীগ্রাসী কামনার ঈশ্বরময়তা, বিধ্বংসিত পারঙ্গমতা।
জানে না সে নারী নগ্ন হওয়ার মোক্ষম উপায়,
প্লাবিত জোয়ার জলে ভেসে আসা শিহরণভেজা স্বপ্নমথিত মুহূর্ত।
বিশ্বচরাচর কেড়ে নিয়ে; আবার লীন হওয়ার মতো
হৃদয়জ ভালোবাসার খেলা।
অর্পিতা, কবির ভালোবাসা পায়নি যে নারী; নারীজন্ম বৃথা তার।
