প্রথম পাতা » বই » চার্লি চ্যাপলিনের “My Autobiography” বই থেকে কিছু কথা

চার্লি চ্যাপলিনের “My Autobiography” বই থেকে কিছু কথা

my-autography by Charlie Chaplin

ব্যাপারটিকে আমি কাকতালীয়-ই ভাবব। আমি গতকালকেই কি মনে করে ভাবছিলাম চার্লি চ্যাপলিনের আত্মজীবনী থেকে কিছু কথা নিজের মতো করে অনুবাদ করব। আগে যেমনটি করেছি আর কি। শুরুও করলাম লেখা। কিন্তু তখনও আমি জানি না আজকেই মানে গতকাল ১৬ এপ্রিল তার জন্মদিন। ব্যাপারটি জানলাম আজকে সকালে যখন প্রথম আলো পত্রিকার একটি লেখা আমার সামনে আসলো। চার্লি চ্যাপলিনকে নিয়ে। প্রথমে ভেবেছিলাম আগের লেখা মনে হয়। কিন্তু দেখি ১৬ তারিখের লেখা। তখন মাথায় আসলো এরকম লেখা সাধারানত কারো জন্মদিনে বা মৃত্যুদিনে লেখা হয়। গুগল করে দেখলাম ১৬ এপ্রিল চার্লি চ্যাপলিনের জন্মদিন। সালটা ১৮৮৯। তবে “পেঙ্গুইন” এর ওয়েবসাইটে দেয়া ১৮৯৫। মৃত্যু সালটাও এক বছর এদিক সেদিক। ১৯৭৭ আর ১৯৭৬। উইকিপিডিয়াতে ১৮৮৯ আর ১৯৭৭ দেয়া। এই জটের ব্যাপারে আমি আর তলিয়ে দেখি নাই।

চার্লি চ্যাপলিনের আত্মজীবনী থেকে লেখার চিন্তা মাথায় আসার একটা কারণ আছে অবশ্য। আমি অনেক আগে ফেসবুকে চার্লি চ্যাপলিনের একটি উক্তি শেয়ার করে রেখেছিলাম। দুই একদিন আগে দেখি সেই উক্তিটি ফেসবুক মেমোরি হিসেবে এসেছে। উক্তিটি হল- I am at peace with God. My conflict is with Man.

একটি কথা বলে নেই। আমার বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন মানুষের উক্তি পড়ার একটা নেশার মত ব্যাপার আছে। ইন্টারনেটের যুগের আগে বিভিন্ন ডায়েরীতে নিচের দিকে যে উক্তি লেখা থাকত তা আমি মন দিয়ে পড়তাম। আর বাণী নিয়ে বই আছে তা তো সবার জানা। এখন তো ইন্টারনেটে সার্চ করলেই সব বাণী, উক্তি উদ্ধৃতি চলে আসে। মনে করেন আমার খুব হতাশ হতাশ লাগছে। আমি গুগলে গিয়ে সার্চ করতাম quotes on depression. এটা একটা নমুনা আর কি। এখনও যে মাঝেমাঝে এই নমুনা করিনা তা না।

যাই হউক, ঐ উক্তিটি আমার ফেসবুকে অনেকদিন পর ফিরে আসায় আমার মনে হল তাহলে চার্লি চ্যাপলিনের আত্মজীবনী My Autobiography থেকে আরো কিছু কথা নিয়ে একটা লেখা লিখি। ঐ উক্তিটির মানে কি তা আমি সঠিক করে মনে হয় বলতে পারব না। স্রষ্টার সাথে আমার কোন বিরোধ নাই আমার সব সমস্যা মানুষের সাথে বা স্রষ্টার সাথে আমার সম্পর্ক শান্তিপূর্ণ কিন্তু মানুষের সাথে বিরোধপূর্ণ। মোটা দাগে অনুবাদ করলে এরকম দাঁড়ায়। অনুবাদ ছাড়া এই কথার আর কিছু করার ক্ষমতা আমার আপাতত নাই। কি বুঝে ফেসবুকে এই উক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শেয়ার করেছিলাম মনে নাই।

My Autobiography বইটা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। তারপর আবার পেঙ্গুইন নামে এক প্রকাশনা সংস্থা তাদের সংস্করণ বের করে ২০০৩ সালে। আমি যে বইটা পড়েছি তা এই পেঙ্গুইন পাবলিকেশনের বই। সেখান থেকেই আমি কিছু উক্তি আমার মত করে অনুবাদ করব।

অনুবাদে যাওয়ার আগে চার্লি চ্যাপলিন আর The Tramp বা The Little Tramp এর ব্যাপারে কিছু কথা বলে নেই।চার্লি চ্যাপলিন কে চিনেনা এমন মানুষ নাই তা ঠাওর করেই বলা যায়। মি. বিন এর বেলায়ও তাই। Rowan Sebastian Atkinson এবং Sir Charles ‘Charlie’ Chaplin হলেন মি. বিন আর The Tramp বা The Little Tramp চরিত্রে অভিনয় করা দুইজন অভিনেতা। আমি সহজ করেই কথা বলি। আমি সোজা মানুষ অনেকবার বলেছি।অভিনেতাকেই চরিত্রের নামে চিনি এখন বলা চলে। The Tramp হয়ে গেছে চার্লি চ্যাপলিন আর মি. বিন হয়ে গেছে Rowan Atkinson। সব পেট্রোলিয়াম জেলী যেমন আমার কাছে হয়ে গেছে মেরিল। সবার কাছে হয়েছে তা নয়।কথার মিল হল না জানি। কি আর করা। গোঁজামিল ভেবে নেবেন।

তবে The Kid (1921), The Gold Rush (1925),City Lights (1931) এসবের মত ফিল্মে কদাচিৎ এই আইকনিক চরিত্রকে The Tramp বা The Little Tramp এসব নামে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মাঝেমাঝে ‘Charlie’ বা “The little funny tramp” নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ছাড়াও আরো দুইটা ফিল্ম হল -Modern Times (1936) এবং The Great Dictator (1940)।বেশির ভাগ মানুষেরই এসব ফিল্ম পুরোটা বা অংশবিশেষ দেখা। বিশেষ করে সবচেয়ে ফানি বা মজার জায়গাগুলো। এসবই silent film বা নির্বাক চলচ্চিত্র তা সবার জানা।

১৯১৪ সালে বের হওয়া Mabel’s Strange Predicament-ই প্রথম ফিল্ম যেখানে Sir Charles ‘Charlie’ Chaplin প্রথম এই চরিত্রে অভিনয় করেন।তিনি নাইটহুড প্রাপ্ত। এই চরিত্রটি দেখতে কেমন, সে কি ধরনের পোশাক পরিধান করে, তার গোঁফ আছে কি নাই, তার হাতে লাঠি থাকে নাকি চাবুক থাকে এসব কথা বলাই বাহুল্য। চরিত্রটি ভবঘুরে ধরনের বলা যায়। সে আসলে ভদ্রলোক নয় কিন্তু পোশাকে আশাকে ভদ্রলোকের ভাব নিয়ে চলাফেরা করে। আচার আচরণ বাচ্চাদের মত মনে হলেও বিভিন্ন পরিবেশ পরিস্থিতিতে টিকে থাকার একটা গুণ তার মধ্যে আছে। এসব কথাই বলা আছে উইকিপিডিয়াতে। যাই হউক এই চরিত্রের চরিত্র নিয়ে কথা বলাও বাহুল্য দোষ হবে আমি জানি।

ঐ সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এমনকি সামরিক বা যুদ্ধ বিগ্রহ এসব ব্যাপারের সাথে এই চরিত্রের আবির্ভাব, বিকাশ, প্রাসঙ্গিকতা কি এবং কোথায় তার বিশ্লেষণ করার জ্ঞান আমার নাই। এ আমার সহজ সরল স্বীকারোক্তি।

এখন এসব বাহুল্য কথা বাদ দিয়ে বইয়ে যাওয়া যাক। My Autobiography। অনেকে এই বইটি নিয়ে যেমন ভাল কথা বলেছে আবার মন্দ কথাও বলেছে। সবার জানা। ভাল মন্দ মিশিয়েই জীবন আর মানুষ। যাই হউক। একটা ভাল কথা আর একটা মন্দ ধরনের কথা বলেই বইয়ের উক্তির অনুবাদে চলে যাব। এমন নয় যে আপনারা অধীর আগ্রহে বসে আছেন এই অনুবাদ এর জন্য। কিন্তু আমার আর এত কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না। অনুবাদে যাওয়ার জন্য আমারই আগ্রহ বেশি আর কি যেন তাড়াতাড়ি লেখাটা শেষ করতে পারি।

দ্য শিকাগো ট্রিবিউন বইটি সম্পর্কে লিখে, “কোন অভিনয়শিল্পীর লেখা সেরা আত্মজীবনী” ও “চমকপ্রদ কাজ”। তবে ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউ-এর জ্যাক স্পেয়ার্স বইটিকে “চলচ্চিত্রের ইতিহাস হিসেবে হতাশাব্যঞ্জক ও ত্রুটিযুক্ত এবং সাহিত্য হিসেবে মাঝারি মানের” বলে উল্লেখ করেন। এই কথা দুইটা উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া।

এবার যাই উক্তিতে।

১- “আপনি যদি নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন তাহলে আপনি রঙধনু জীবনেও খুঁজে পাবেন না”।

স্বাভাবিক ব্যাপার। রংধনু থাকে আকাশে মাটিতে না। আকাশ উপরে থাকে নিচে না। তাই উপরে তাকাতে হবে রংধনু দেখতে চাইলে। তবে নিচেও দেখা যায়। পানিতে প্রতিফলন আর কি। কিন্তু আসল রংধনুর মজা পাবেন না। যাই হউক এসব পাতলা কথা বাদ দিয়ে ভারি কথায় যাই। আপনাকে জীবনে উচ্চাশা, স্বপ্ন রাখতে হবে। সে স্বপ্ন পুরনের জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মনটা কে বড় করে বড় স্বপ্ন নিয়ে জীবনের পথে আগাতে হবে। চার্লি চ্যাপলিনের এই বইয়ে তার দরিদ্র জীবনের গল্প, তার মায়ের কষ্টে সংসার চালানোর গল্প, তার বাবার কথা, বাড়ির সামনে দিয়ে vaudeville দলের যাওয়া কিভাবে তাকে অভিনয়ের দিকে টানে এসব কথায়ই বইটাতে পাবেন। জীবনীতে যা থাকে আর কি। vaudeville একধরনের কমেডি মঞ্চ নাটকের মতো ব্যাপার, সোজা করে বলা যায়।

২- “বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে আমি খুব পছন্দ করি।কারণ আমি কাঁদলেও কেউ আমার চোখের পানি আলাদা করে দেখতে পারে না তখন”।

৩- “এই পৃথিবীতে কিছুই স্থায়ী নয় এমনকি আমাদের দুঃখ কষ্টগুলোও”।

এই দুইটা কথা নিয়ে আর কি বলব। সবাই বুঝে। নিজের দুঃখ কষ্ট সঠিক মানুষের সাথে শেয়ার করলে কমে তা ঠিক কিন্তু তাই বলে দুঃখ দেখিয়ে বা ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেড়ানোর কোন দরকার নাই। ফেসবুকে তো নয়ই। থাক। আপনার ইচ্ছা।দুঃখ কষ্টে অনেক হতাশ হওয়ার কিছুই নাই। সব ঠিক হয়ে যাবে। সব ঠিক হয়ে যায়। সময়ের সাথে সাথে। Time is the best healer or doctor কথাটা মনে করতে পারেন।

৪- “আয়না আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আমি যখন কাঁদি আয়না তখন হাসে না”।

আপনি কাঁদলে যেসব বন্ধু হাসে তাদের পরিহার করুন। এদের বন্ধুই বানাবেন না পরিহার করবেন তো পরের কথা। মোদ্দা কথা বন্ধু বানাবেন বুঝে শুনে। আসল-নকল ভেদাভেদ বুঝে। বাসায় আরো দুইটা তিনটা আয়না কিনে ফেলুন। ভালো বন্ধু বলে কথা!

৫- “হাসি ছাড়া একেকটি দিন অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়”।

হাসুন। অনেক বিপদ চারপাশে জানি। তারপরও হাসার চেষ্টা করুন। খুশি থাকার চেষ্টা করুন। ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন। meme দেখুন, meme বানান বন্ধুদের নিয়ে, আর চার্লি চ্যাপলিনের সিনেমা দেখুন, মি. বিনের মুভি দেখুন। যা আপনাকে হাসাবে তাই করুন। অন্যকে কষ্ট না দিয়ে হলেই হল। অন্যকেও হাসান। সবাই মিলে হাসুন। এই হাসাহাসি দিয়ে লেখা শেষ।

  •  
  • 10
  •  
  •  
  •  
  •  

বই থেকে আরও পড়ুন

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *