প্রথম পাতা » জীবনযাপন » সাত বছরের ইরা ও সভ্যতার লাশ

সাত বছরের ইরা ও সভ্যতার লাশ

Ira

এই মেয়েটির নাম ইরা। তার বয়স সাত বছর। হ্যাঁ, ওহে ধ্বজভঙ্গ বাঙালি, এর বয়স সত্যই সাত। হারবাল বালছাল খাওয়া বাঙালি কয়েকজন পুরুষ তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য এই মেয়েটিকে সীতাকুণ্ডের পার্কে ঘুরতে নিয়ে যায়। তারা একে ধর্ষণ করে। মেয়েটি যেন ধর্ষকদের কথা কাউকে না বলতে পারে তাই তার শ্বাসনালী কেটে মৃত ভেবে জঙ্গলে ফেলে যায়! এরপর?

এরপর হতে পারে সে ‘পথের পাঁচালি’র দুর্গা, হতে পারে সাতক্ষীরার সেই আছিয়া, হতে পারে তিন্নি, হতে পারে বিন্তি, হতে পারে আমিনা, হতে পারে ফাতিমা! সে ফিরে এসেছে তোমাদের সভ্য সমাজে। এসেছে একবুক রক্তরাঙা লাল অভিযোগ নিয়ে। এই ইরা কিংবা শত শত আছিয়ারা জানাতে চায় তোমাদের ক্ষুধা নিবারণের যথেষ্ট সামর্থ্য এদের নেই! তোমরা ধারালো ব্লেড দিয়ে চিরে প্রশস্ত করে নিয়েছো তোমাদের শিশ্নের রাস্তা! তোমরা তাজা রক্তকে ভেবেছো নারীর প্রারম্ভিক রস। শুয়োরেরা তাদের শিশ্ন চালিয়েছে রক্তাক্ত ক্ষয়ে যাওয়া কাটা মাংসের স্তুপে! হায়েনার বীর্যপতনে নারকীয় উল্লাসে মেতেছে নরকের একদল কীট। তারপর? মেয়েটি যেন এই কথা কাউকে বলতে না পারে তাই তার গলা কেটে দিয়েছে!

Ira hurt

কিন্তু থেকে যায় পদচিহ্ন। রয়ে যায় ইতিহাস। কথা কয় নির্বাকসত্তা। অন্ধকার ভেদ করে নেমে আসে সময়। কিছু প্রশ্ন রেখে যায় মৃত্যুপথযাত্রী স্বর্গের শিশু! ও বলতে চায়। ও চিনবে তাদের। যারা নিয়ে গিয়েছিল ওকে। সব, সব বলবে। গলার ফোয়ারা দিয়ে নেমে আসা রক্তে ভিজে যায় সাদা জামা। ওর জামাটা লাল বলে ভ্রম হয়। ওর চোখ চকচকে। সব জানে। সব বলে দেবে। সব চিনতে পেরেছে। সবাইকে। যারা ছিল তাদের। যারা ছিল না তাদেরও। ওর চিকিৎসা দরকার। ওদিকে শকুনের চোখ শুকিয়ে গেছে। শকুনরা মরিয়া। সব কি বলে দেবে মেয়েটা?

না। সব বলারও প্রয়োজন নেই। বলতে পেরেছিল আছিয়া। অনেক কথা। অনেক প্রশ্ন। মেলেনি উত্তর। গত রমজানে আছিয়া গেলো। এই রমজানে ইরা। দুজনের বয়সও একই। সবেমাত্র সাত! আসছে রমজানে তো আরেকজন যাবে। মাঝেও গেলো কতো! আরো যাবে শত। তারপর সহস্র। আপনার মেয়ের নাম কী? অবন্তি, বিথি, তিথি, হিয়া…! আসছে রমজানের জন্য তাকে তৈরি করুন। কতোগুলো ক্ষুধার্ত হায়েনা চেয়ে আছে আপনার মেয়েটির দিকে! তাকে তৈরি করুন। হায়েনার খাঁচায় তাকে দিতেই হবে বিসর্জন!

এরপরও বসে থাকবেন? আঙুল চুষবেন? বসে বসে বাল ছিঁড়বেন আর আফসোস করবেন? নিজের মেয়েকে তুলে দেবেন একদল কুত্তার বাচ্চার হাতে? ছিঁড়ে ছিঁড়ে খুবলে খাবে তার দেহ? তার শরীরে চালাবে ব্লেড? একটা উন্মত্ত লোহার রড ক্ষতবিক্ষত করবে তার পবিত্র শরীরটা?

উঠুন, দলিত ভুজঙ্গের মতো জেগে উঠুন।
উঠুন, আহত বাঘের মতো গর্জে উঠুন!
একবার, শতবার!
চিৎকার করে বলুন : বিচারহীনতার এই শাসনযন্ত্রের মুখে আমি মুইত্তা দিলাম।

জীবনযাপন থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

Sujon Hamid
সুজন হামিদ
জন্ম: ২৯ মার্চ, ১৯৮৭ খ্রি., শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম তাওয়াকুচায়। বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পারিবারিক জীবনে তিন পুত্র আরিয়ান হামিদ বর্ণ, আদনান হামিদ বর্ষ এবং আহনাফ হামিদ পূর্ণকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। একসময় থিয়েটারে যুক্ত থেকেছেন। রচনা, নির্দেশনা ও অভিনয় করেছেন অনেক পথনাটকে। মুক্তিযুদ্ধের মহান আদর্শকে লালন করেন হৃদয়ে। স্বপ্ন দেখেন বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের। গ্রন্থ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জ্ঞানগ্রন্থ 'বাংলাকোষ'(২০২১)।

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *