ক্ষুধাতুর অপেক্ষাক্লান্ত এক পথিক রাত্রি ত্রিযামায়
খুবলে খেতে চেয়েছে রেলিং, ইষ্পাত ও পিলারসমেত
গোটা মেট্রোরেল, উন্নয়ন, মহাসড়ক, রোল মডেল,
অন্ততঃ লোকচক্ষুর অন্তরালে পেটের তলানিতে
জমিয়ে রাখার মতো এক খাবলা বালি ও কয়েকটি সুড়কি।
পিলারে, কংক্রিটে প্রতিহিংসার কামড়ে ঝরা দাঁত,
খামছিতে উপরানো রক্তারক্তি নখের উপর কব্জি জুড়ে
আইনের চুড়ি এক জোড়া। তবু শরীরের ভার বহে
লাথির প্রত্যাঘাতে বেদনাহত পা; অগ্রযাত্রা নষ্টের অপরাধ
ক্রমাগত কাঁদে জেলখানার ক্লান্ত, অবসন্ন শিকে।
তবুও গান ভেসে আসে দূরে, আরো দূর থেকে
‘আমার মিটে না তো ক্ষুধা, মা তোর উন্নয়ন চেটে।’
স্বাধীনতা স্তম্ভের গায় চাঁদহাসা জ্যোৎস্নার রাতে,
স্তম্ভের বিপরীত ছায়ায়; গাঢ় জমাট অন্ধকারে
সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের কানায় কোনায় হাঁটা
পাগলিনী ও গান থামে সহসাই। সপাট হাতের থাবায়।
তারপর ভাতের আশ্বাসে থামে চিৎকার, খুঁজে ফেরে
আরো অন্ধকার কাপড় ফেলে গা’র অন্ধকারাবৃতা
করে আহ্বান
‘পারবি তো!’ শুনে পাগলির হাসি নিস্তব্ধতা ভাঙে
হি হি হি হিল্লোলে কাঁপা চুপসানো স্তন দুলিয়ে বলে,
‘খানকির পো, এতো বছর পদ্মাসেতুরে নিলাম,
তর ন্যাতাবাইগুনে কি অইবো রে গোলামের পুত গুলাম।’
এই শুনে চাঁদ আরো বেশি হাসে।
আরো আলোয় আলো, আরো উন্নত উন্নয়ন ও
চকমকি আশ্বাস, মধ্যম আয়; খবরে ও টিভিতে ভাসে।
জোনাকির এতো এতো ভিড়, পাখির কিচির মিচির
তবু কাঁদে নিরন্নের থালায় অভাবে, অনটনে
দূর ও সুদূর আকাশের প্রতিফলিত চাঁদ।
এতো আলো, এতো প্রেম, এতো স্বপ্ন চায়নি’ক মানুষ।
যতটা চেয়েছে একমুঠো ভাত।
১৪ মার্চ, ২০২২।
জাদুনগর।
