প্রথম পাতা » কবিতা » এক মুঠো ভাত

এক মুঠো ভাত

rice

ক্ষুধাতুর অপেক্ষাক্লান্ত এক পথিক রাত্রি ত্রিযামায়
খুবলে খেতে চেয়েছে রেলিং, ইষ্পাত ও পিলারসমেত
গোটা মেট্রোরেল, উন্নয়ন, মহাসড়ক, রোল মডেল,
অন্ততঃ লোকচক্ষুর অন্তরালে পেটের তলানিতে
জমিয়ে রাখার মতো এক খাবলা বালি ও কয়েকটি সুড়কি।
পিলারে, কংক্রিটে প্রতিহিংসার কামড়ে ঝরা দাঁত,
খামছিতে উপরানো রক্তারক্তি নখের উপর কব্জি জুড়ে
আইনের চুড়ি এক জোড়া। তবু শরীরের ভার বহে
লাথির প্রত্যাঘাতে বেদনাহত পা; অগ্রযাত্রা নষ্টের অপরাধ
ক্রমাগত কাঁদে জেলখানার ক্লান্ত, অবসন্ন শিকে।
তবুও গান ভেসে আসে দূরে, আরো দূর থেকে
‘আমার মিটে না তো ক্ষুধা, মা তোর উন্নয়ন চেটে।’

স্বাধীনতা স্তম্ভের গায় চাঁদহাসা জ্যোৎস্নার রাতে,
স্তম্ভের বিপরীত ছায়ায়; গাঢ় জমাট অন্ধকারে
সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের কানায় কোনায় হাঁটা
পাগলিনী ও গান থামে সহসাই। সপাট হাতের থাবায়।
তারপর ভাতের আশ্বাসে থামে চিৎকার, খুঁজে ফেরে
আরো অন্ধকার কাপড় ফেলে গা’র অন্ধকারাবৃতা
করে আহ্বান
‘পারবি তো!’ শুনে পাগলির হাসি নিস্তব্ধতা ভাঙে
হি হি হি হিল্লোলে কাঁপা চুপসানো স্তন দুলিয়ে বলে,
‘খানকির পো, এতো বছর পদ্মাসেতুরে নিলাম,
তর ন্যাতাবাইগুনে কি অইবো রে গোলামের পুত গুলাম।’

এই শুনে চাঁদ আরো বেশি হাসে।
আরো আলোয় আলো, আরো উন্নত উন্নয়ন ও
চকমকি আশ্বাস, মধ্যম আয়; খবরে ও টিভিতে ভাসে।
জোনাকির এতো এতো ভিড়, পাখির কিচির মিচির
তবু কাঁদে নিরন্নের থালায় অভাবে, অনটনে
দূর ও সুদূর আকাশের প্রতিফলিত চাঁদ।

এতো আলো, এতো প্রেম, এতো স্বপ্ন চায়নি’ক মানুষ।
যতটা চেয়েছে একমুঠো ভাত।

১৪ মার্চ, ২০২২।
জাদুনগর।

কবিতা থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

রাজু অনার্য
রাজু অনার্য
কবি, গল্পকার ও লোকসাহিত্য গবেষক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বর্তমানে ঐ বিশ্ববিদ্যালয়েই পিএইচ,ডি গবেষণা করছেন লোকসাহিত্য বিষয়ে। প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: লাশের মিছিল, অসামাজিক পদাবলী, ঈশ্বরের প্রেমিক ও জেগে ওঠো বিবশ বিবেক। অনুবাদ গল্প সংকলন: বোকাই চাচার ঘোড়া ভাড়া। সম্পাদনা: বঙ্গবন্ধু ও বাংলা লোকসঙ্গীত, শাহ আজাহার ও তাঁর গান, বাউলতত্ত্ব ও ওস্তাদ মফিজ দেওয়ানের গান। গবেষণা: বাউলতত্ত্ব ও বাউল শব্দকোষ। ছড়া: স্বর্ণার ভুটকো ছাগল, ইত্যাদি।

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *