প্রথম পাতা » গল্প » সোনাফর দেওয়ানের একদিন

সোনাফর দেওয়ানের একদিন

Human or not

ভোরে চোখ মেলেই সোনাফর দেওয়ানের মেজাজ বিগড়ে গেলো। কয়দিন যাবৎ ঘুম থেকে উঠেই উৎকট গন্ধে বমি আসে তার। মুখে যেন ইঁদুর মরে আছে। অনেক ডাক্তার দেখালেন কাজ হলো না। ভিতরে পঁচন ধরেছে কী না কে জানে? অনেক সভা সেমিনারে তাকে কথা বলতে হয়। মুখের দুর্গন্ধের কারণে মন খুলে কথা বলতে পারছেন না। অথচ মনে তার কতো কথা! এখন অবশ্য মুখে মাস্ক থাকে। অতটা আনইজি লাগে না। মাস্ক জিনিসটা খারাপ না। প্রয়োজনে আইন করে মাস্ক পড়া বাধ্য করা যেতে পারে।

– কই,এসো। তোমার নাস্তা দিয়েছি।

‘তোর নাস্তা তুই খা, মাগী’ – কথাটা মুখে এসেই থাকে। কিন্তু সোনাফর বলতে পারেন না। সে ভাবে ‘এই কালো মোটা মহিলাটার জন্য জীবন অতিষ্ঠ তার। তার এতো টাকা পয়সা কে খাবে? ত্রিশ বছরে এই মহিলা তাকে একটা সন্তান দিতে পারে নাই। দেখতেও কেমন কুৎসিত। শরীরের কোনো অঙ্গের সাথে কোনো অঙ্গের সামঞ্জস্য নাই। মাগীর পেট দেখলে মনে হয় দুই তিনটা পোলাপান পেটে! অথচ ডিব্বা খালি! গ্যাসে টইটম্বুর। যৌবনে কাকও নাকি সুন্দর লাগে! আহারে কী ভুলটাই না করছিলাম ত্রিশ বছর আগে!’

বাবার সাথে রাগ করে মেট্টিক পরীক্ষার পরপর ঢাকায় আসে সোনাফর। একজনের সহায়তায় একটা লজিং বাড়ি পায় সে। বাড়িওয়ালার দুই মেয়ে। বড়টা পড়ে নাইনে,ছোটটা ফাইভে। বড় মেয়েটা কালো,মোটা। ছোটটা চটপটে। পড়ালেখায় যেমন, কথাতেও খই ফোটে। সুন্দরও দেখতে। সোনাফরের বড়ো ভালো লাগে ছোট মেয়েটাকে। সোনাফর কলেজে পড়ে। মেয়েদুটোকে সকাল বিকাল পড়ায়।

একদিনের ঘটনা। বাইরে বৃষ্টি। ছোট মেয়েকে নিয়ে তার বাবা-মা ডাক্তারের কাছে গেছেন। বড় মেয়েটা ঘুমিয়ে আছে। সোনাফর কী কাজে ঘরে গিয়ে দেখে মেয়েটার একটা পা হাঁটু পর্যন্ত নগ্ন। সে দ্রুত ঘর থেকে বের হতে চাইলো। কিন্তু কী এক আদিম বাসনায় প্রলুব্ধ হয়ে মনকে সে ফেরাতে পারেনি। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বাড়িওয়ালা চলে আসে। ঐ রাতেই বিয়ের কাজ সমাধা হয়ে যায়।

সোনাফর আজও আফসোস করেন। ‘সেদিন যদি ছোট মেয়েটা বাসায় থাকতো তবে তার কপালে এই জলহস্তি জুটতো না। জীবনটা তার আমোদে কাটতো।’ বিয়ের পর আরো দশবছর তিনি ঐ বাড়িতে ঘরজামাই ছিলেন। তাই অনেক কথা মনে আসলেও মুখ ফোটে একটিও বলতে পারেন না সোনাফর দেওয়ান।

একগ্লাস লেবুর শরবত খেয়ে তিনি এবার রওয়ানা দেন টয়লেটের দিকে। হাতে নেন তিনটি সংবাদপত্র। টয়লেটে বসে বসে তিনি পেপার পড়েন। কোনো কোনো দিন তিনটি পত্রিকাই শেষ হয়ে যায়। তবু কাজ হয় না। কপাল ভালো হলে অনেক চেষ্টাবলে এক আধটু পড়ে, সাকুল্যে পঞ্চাশ গ্রাম! কুষ্ঠকাঠিন্য হবে হয়তো! ওষুধেও কাজ হচ্ছে না।

সোনাফরের হাতে লাল ও সবুজ কালির কলম। তিনি হেডলাইনগুলোতে খবরের ধরন অনুযায়ী দাগ দেন। সংবাদ শুভ হলে সবুজ। অশুভ হলে লাল। প্রত্যেকটার নিচে আবার কমেন্ট লেখেন। তিনি একটি বহুলপঠিত বাংলা পত্রিকা খুললেন।

” দেশে নতুন করে দরিদ্র হলো এক কোটি তেষট্টি লাখ মানুষ।”

সোনাফর লাল কালিতে লাইনটা দাগালেন। কমেন্টে লিখলেন ‘আবাল’। বিড়বিড় করে বললেন – বুঝেনা কিছু,বিচিরে কয় লিচু! ঘরে বসে দরিদ্র গোনে! ফালতু সব।

“স্বাস্থ্যখাতের বেহালদশা,মানুষ যাবে কোথায়?”

সোনাফর লাল দাগ দিলেন। কমেন্টে লিখলেন ‘বোকাচোদা’। বললেন – স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা হলে মানুষ কবরে যাবে,এই প্রশ্নের উত্তর কি এরা জানে না? মুখে আরেকটা খারাপ কথা বলে নিজেই লজ্জা পেলেন। তার নামের সাথে মিলে যায় কথাটা। তিনি ভেবে পান না,তার বাবা এই নামটা কোন যুক্তিতে রেখেছে।

“বাড়ছে করোনা সংক্রমণ” এই খবরে তিনি সবুজ দাগ দিলেন। কমেন্টে আলহামদুলিল্লাহ লিখতে গিয়ে থামলেন। টয়লেটে বসে এটি লেখা যাবে কি না এই বিষয়ে ইমামকে জিজ্ঞেস করতে হবে। মাসয়ালা না জেনে লেখা যাবে না। বিরাট ভুল হতে পারে। আজ কপাল ভালো। ভুল করা ঠিক হবে না।

বেসিনের সামনে গেলেও মনটা খারাপ হয় তার। নিচের ঠোঁটটা ঝুলে যাচ্ছে। কপালটা কেমন সামনের দিকে টিলা হয়ে যাচ্ছে। মাথার চুলতো কবেই অর্ধেক হয়ে গেছে। দিন দিন এমন বদসুরত হলে কীভাবে হবে? জীবনটাকে তিনি ভোগ করতেই পারলেন না।

– তোমার ফোন বাজছে।

‘কে ফোন দিলো? তার শালি নাকি? দিতে পারে। ইদানিং তার সংসারে ঝামেলা যাচ্ছে। ওর স্বামীর ব্যবসা মন্দ যাচ্ছে। যাক। শালা মরুক। তারপর? তারপর এই জলহস্তির গলায় দড়ি দিয়ে জীবনটাকে একটু ভোগ করবো। আহা! নীলা,শালি যা রঙ্গ জানে!’

ফোন ধরে দেখলেন হাসপাতালের ম্যানেজার। রাজধানীতে একটি হাসপাতাল আছে তার। ম্যানেজার জানালেন আইসিইউতে একজন মারা গেছে। বিল নিয়ে হৈচৈ। এরা বিল নিয়ে কেন হৈচৈ করে সোনাফর বুঝেন না। ‘কেনরে বাবা,বিল নিয়ে হৈচৈ করলে হাসপাতালে কেন আসিস? বাড়িতে সুখে মর। চিকিৎসা নিবি টাকা দিবি না?’ বিড়বিড় করে বললেন – বাইনচোদ।

মুখ থেকে ভক করে মরা ইঁদুরের গন্ধ বের হলো। গন্ধে মাথা ঝিমমেরে আছে তার।

নাস্তার টেবিলে বসে তিনি ভাবছেন – ‘নাস্তা খেতে হয় একা। জলহস্তির নানা রোগ। একবেলা খেলে আরেক বেলা খায় না। কোনো সময় খেতে বসলেও কথা নাই। অথচ নীলা! সে যেদিন টেবিলে থাকে টেবিলকেও মনে হয় হেরেমখানা। নাহ,জীবনটা তার বিষাদে ভরা। সত্যি!’

তিন চার দিন ধরে তিনি কোথাও যান না। মনে ভয় ঢুকে গেছে। শরীর খারাপ করলে বিপদ আছে। বাহিরের সব বন্ধ। বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ নাই। বড় বড় রুই কাতলারা পগাড় পার। ড্রয়িং রুমে বসেই অফিস করেন। লোকজন আসতে থাকে নয়টা থেকে। সেখানেই কাজ সারেন। চা খেতে খেতে তিনি ভাবেন – একজন সামান্য লজিং মাস্টার থেকে আজ তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক। হাসপাতাল,গার্মেন্টস,এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট। আরো নতুন সেক্টর যোগ হচ্ছে প্রতিমাসেই। বন্যার পানির মতো তার টাকা আসে হুহু করে। কেবল মনটাই তার খাবি খায়। মনটা খাঁ খাঁ করে একটি সন্তানের জন্য,একটু রঙ্গরসের জন্য!

পিএ এসে সিডিউল দিয়ে গেলো। প্রথমেই ইমামকে আসতে বললেন। গ্রামের মসজিদের ইমাম। পরিত্যক্ত দেওয়ানবাড়ি পাকা মসজিদের ইমাম প্রতি মাসে এসে হাদিয়া নিয়ে যায়। এলাকার খবর-টবর দেয়।

– আসসালামু আলাইকুম জনাব
– ওয়ালাইকুম। তিন ফুট দূরে বসেন। মাস্ক লাগান মুখে।
– জি জনাব
– কথায় কথায় জনাব বলবেন না। স্যার বলবেন।
– জি
– সকালের মক্তব কি চলে?
– জি স্যার
– মেয়েছেলে পড়ে?
– পড়ে। সাত – আটজন
– মেয়েদের দূর থেকে তালিম দিবেন। মাখরাজ শিখাবেন শরীরে হাত না দিয়া। আপনার বিষয়ে অভিযোগ আছে। শুক্রবারের মোনাজাত ছোট করবেন। মোনাজাতে এতো কী বলেন? ময় মুরুব্বি থাকে। এদের হাত লেগে যায়। চার হাজার টাকা নিয়া যান। দেশের অবস্থা খারাপ। সব ঠিক হোক। কিছু বাড়িয়ে দিব। যান। বিদায়।

– আসসালামু আলাইকুম।
– শোনেন,খালি নামাজ পড়ানোই ইবাদত না। মানুষের সেবা করেন। রাজনীতি না করেও দেশের সেবা করা যায়। আসেন।

ইমাম চলে গেলে তার মনে হলো,মাসয়ালা জিজ্ঞেস করা হয় নাই। থাক,আরো কতো আসবে।

একটু পান মসলা খাইতে পারলে মুখের গন্ধটা কমতো। আজ আর সহ্যই হচ্ছে না। মাস্ক পইড়া থাকলেতো আরো মুশকিল। গন্ধ আর ডান বামে যায় না। সরাসরি নাকে। মুখ যেন ইঁদুর মারার কল হয়ে গেছে। ইঁদুর আটকে মরে আছে চার- পাঁচটা!

– ম্যানেজার সাব আসেন। বলেন কী খবর?
– স্যার, তিনটা গ্লাস ভাঙছে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে একজন নার্স আহত হয়েছে। চিকিৎসা চলছে স্যার।
– পুলিশ যায় নাই?
– আধাঘন্টা পরে গেছে স্যার।
– বাংলাসিনেমা দেখে এদের মাথা নষ্ট। এখন আর সমস্যা আছে?
– না,স্যার।আপনার ফোন পেয়ে…
– না না আমি কিছু না। ওপর থেকে সমাধান আসে। মন দিয়ে কাজ করেন। বিল কতো করেছিলেন?
সংবাদে দেখলাম আধা ঘন্টায় অক্সিজেন ধরছেন সত্তর হাজার?
– ভুল খবর স্যার। বিশ মিনিট অক্সিজেন দিয়েছি। তিরাশি হাজার ধরেছি।
– আপনাকে একটা ইনক্রিমেন্ট দিতে বলবো একাউন্টসকে। এখন সময় খারাপ। বিলটিল কমায়ে ধরবেন। মানবসেবা করেন। রাজনীতি ছাড়াও মানবসেবা করা যায়।
– জি স্যার
– ডা. তাশনিয়া চেম্বার করে?
– না,স্যার। উনি আর আসবেন না বলেছেন।

‘মাগী’! সোনাফর ছোট করে বললেন। মাস্ক থাকায় অনেক ছোটকথা বলা যায়। কেউ শোনে না। ঠোঁটনড়াও দেখা যায় না।

গাইনি ডা. তাশনিয়া সদ্য বিধবা হয়েছেন। সোনাফর আকারে ইঙ্গিতে যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তা তিনি রাখেন নি। এখন চেম্বার করাও বাদ দিলো! বদমহিলা!

– তার ব্যাপারে আমি পরে দেখবো। এখন যান,মানবসেবা করেন।

ইদানিং তার অবস্থা ভাদ্রমাসের কুকুরের মতো হয়ে গেছে। কিছুতেই স্বস্তি পান না। নীলার সাথে একটু কথা বললেও কাজ হতো। তিনি অনেকবার চেষ্টা করে নীলাকে ধরলেন।

‘ নীলা,কেমন আছো? মন খারাপ? রাতে? ও! আচ্ছা থাকো। আমার এখানে বেড়ায়ে যাও। তোমার আপাও একা! হ্যালো…
ফোন কেটে দিয়েছে! শালি…’

ইদানিং নেটওয়ার্কও কাজ করে না। এরা খালি টাকা কাটে অথচ মানবসেবার বিষয়টি চিন্তায়ই নাই। রাজনীতি না করেওতো মানবসেবা করা যায়।

এই কথাটি তিনি নতুন শিখেছেন। তার রাজনীতি করার খুব শখ। একটা দলের হাইকমান্ডের সাথে আলোচনাও চলছে। গোয়েন্দারিপোর্ট ভালো না। তিনি চেষ্টা করছেন, গোয়েন্দা রিপোর্ট ভালো করানোর। নেতা বলেছেন- ‘এলাকায় যান। মানুষের জন্য কাজ করেন। রাজনীতি না করেও মানবসেবা করা যায়। সামনেরবার দেখা যাবে। মন দিয়ে ব্যবসা করেন।’

দুপুর পর্যন্ত ড্রয়িংরুমে থাকলেন তিনি। বেশকিছু ফাইল দেখলেন। গাজীপুরের নতুন
জমিক্রয়,জাহাজ ক্রয়ের সিডিউল,হাসপাতালের সরঞ্জাম,গার্মেন্টেসের বিলভাউচার। শেষ একটি কাগজে সই করে নামটার দিকে তিনি তাকিয়ে থাকলেন দীর্ঘক্ষণ! জীবন তাকে কোথায় এনেছে? একটি ক্লিনিকের সামান্য ম্যানেজার হয়ে জীবন শুরু করেছিলেন। অনেক চরাই উতরাই তিনি দেখেছেন। দেখেছেন জীবনের নানা রঙ- সাদা,কালো,ধূসর,বিবর্ণ,চকচকে রঙিন!

সাধু-সন্ন্যাসীর অর্থহীন সাদা চিত্তমখমলের সাধনার পথে তিনি যাননি,হেঁটেছেন কালো পথের অর্থপূর্ণ লালগালিচার সন্ধ্যানে। এদেশে তার ‘সফলতার’ গল্পটি বলা জরুরি না। দুর্লভও না।

প্রতিদিন দুপুরে খেয়ে ঘুমানো তার অভ্যাস।

আজ বিকেলে লেকে মাছ ধরতে যাওয়ার কথা ছিল। গেলেন না। আজও দুইজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ মারা গেছে। পরিস্থতি ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে।
একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছে তার। নীলাকে একবার ফোনে চেষ্টা করলেন। পেলেন না। একবার বৌ এর ঘরে উঁকি দিলেন। নাকডাকার শব্দে বিষম খেয়ে ছাদে গেলেন। আকাশে রঙ-বেরঙের ঘুড়ি উড়ছে। এই কাজে মানুষ কী আনন্দ পায় তিনি বুঝেন না। মানুষ অকারণে কতোকিছু করে!

হাসপাতালের ম্যানেজার ফোন করেছে। লোকটা যখন তখন ফোন করে। নিজে বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু করে না।

– কী হয়েছে?
– স্যার,একজন আইসিইউতে মারা গেছে!
– তাতো প্রতিদিনই মরছে!
– গুরুত্বপূর্ণ লোক স্যার!
– মানুষ মরার পরে আর গুরুত্বপূর্ণ থাকে না। কী হয়েছে বলেন!
– সব মিডিয়া চলে এসেছে স্যার। যিনি মারা গেছেন তিনি একজন কবি। আমরা চিনি নাই স্যার। তদন্তে আমাদের গাফিলতি ধরা পড়েছে। তার ভক্তরা এসে হাসপাতাল ভাঙচুর করেছে। সরকার আমাদের লাইসেন্স বাতিল করেছে। আপনার নাম মিডিয়ায় এসেছে। কীট সিন্ডিকেটে আপনি জড়িত। অনলাইন খবর দেখেন স্যার!

– হ্যালো হ্যালো… লাইন কেটে গেছে।

প্রচণ্ড বাতাসে দ্রুম করে দখিনের খোলা দরজা লেগে গেলো। আচমকা শব্দে সচকিত হয়ে সোনাফর ধড়মড় করে উঠলেন। তিনি ঘামছেন। কে ফোন করেছিল? কোন কবির মৃত্যু হয়েছে? তার লাইসেন্স বাতিল করলো কে?
তার ধাতস্থ হতে সময় লাগলো। তিনি বুঝলেন – দুঃস্বপ্ন! তাছাড়া এসব কি সম্ভব!! তিনি ঠাণ্ডা পানি খেলেন। ফোনটা হাতে নিলেন। বিশটা মিসড কল? নীলা! কী ব্যাপার? তিনি ম্যানেজারকে ফোন করলেন। সব ঠিক আছে। আইসিইউতে আজ কেউ নেই। এবার নীলাকে ফোন করলেন –

– নীলা, বল। কোথায়? আমার বাড়িতে? বল কী!

তিনি নীলাকে খুঁজতে লাগলেন। বসার ঘরে দুইবোন গল্প করছে।

– ঘুমাচ্ছিলেন। তাই ডাকি নি। গাড়ি পাঠানোর জন্য ফোন করেছিলাম। ধরেন নি। সিএনজি করে এসেছি। ঘুম ভালো হয়েছে দুলাভাই?

– বাড়িতে এসেছে প্রিয়ে
ঘুম না হয়ে কি পারে??

– আপা,কেমন ইঁদুর মরার গন্ধ না! কী বাজে গন্ধ! দেখোনা কোথাও মরে পড়ে থাকতে পারে!

সোনাফর আর কথা বাড়ালেন না। একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। বাজারের ব্যবস্থা করতে গেলেন। এতোদিন পর শালি এসেছে আজ!

রাতে খেয়ে শালি দুলাভাইয়ের আড্ডা জমে উঠল।

– দুলাভাই,আপনার না নমিনেশন পাওয়ার কথা? কতোদূর!

ম্যানেজার ফোন করেছে। সোনাফর বিরক্ত হলেন।বাইরে থেকে কথা বলে আবার বসলেন। কী বলছিলে বল!

– কে ফোন করেছিল? নেতা?
– না,হাসপাতাল থেকে। একটা শিশু মারা গেলো একটু আগে। হাসপাতাল ভর্তি নেয়নি। বের হওয়ার সময় গেটে মারা গেছে। আত্মীয়রা খেপেছে। ভাঙচুর করছে। হা হা হা।
– আপনি হাসছেন? ওরা ভাঙচুর করছে!
– কিছু না। লোক আছে,পুলিশ আছে। ওরা দেখবে। তুমি কী যেন বলছিলে? ও। হে। নমিনেশন!

সোনাফর দেওয়ান আরো একটু কাছে সরে এলেন।

– শোন,শ্যালিকা,রাজনীতি না করেও মানবসেবা করা যায়। আমি মানবসেবা করছি।

নীলা গভীর বিস্ময়ে লক্ষ করলো, একটা পঁচা ইঁদুর মারার কল থেকে ভক ভক করে মানবসেবার কথাগুলো বেরিয়ে আসছে!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গল্প থেকে আরও পড়ুন

সুজন হামিদ
সুজন হামিদ
আমার কবিতা লেখা হয়ে ওঠে না। কবিতা না লিখলেও আমার দুটি মহাকাব্য আছে। আরিয়ান হামিদ বর্ণ আর আদনান হামিদ বর্ষ - আমার দুই পুত্রের মাঝে জীবনের সকল প্রশান্তি খুঁজে পাই।

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *