প্রথম পাতা » বই » জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ

জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠ

বেঙ্গল বই এ প্রায় প্রতি সপ্তাহেই যাই৷ কিন্তু জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক বিদ্যাপীঠের কথা জানতাম না৷ কিছুদিন আগে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে জানতে পারি৷ বেঙ্গল বই বিল্ডিং এরই লেভেল ৬ এ৷ বিল্ডিংটার কাগজে কলমে নাম বেঙ্গল শিল্পালয়৷ বেঙ্গল বই নামেই বেশির ভাগ মানুষ চেনে, বিশেষ করে বেঙ্গল বই আগের স্থান পরিবর্তন করে এখানে এসে উঠার পর থেকে। যাই হউক আজকে ঘুরে আসলাম বিদ্যাপীঠটি৷ এখানে যাব ভেবে আজকে বেঙ্গল বই এ উঁকিও দেই নি৷ আগ্রহ বিদ্যাপীঠে৷

বেঙ্গল বই এর কফিশপে কফি খেয়ে কাউন্টারে ব্যাগ রেখে ভিজিটর পাস নিয়ে লিফটের ৬ এ চলে যাই৷ গ্রন্থাগারের সদস্য না হলেও ভিজিটর হিসেবে লাইব্রেরিতে যাওয়া যায়৷ রেজিস্টার খাতায় নাম ঠিকানা এন্ট্রি করে গলায় একটা ভিজিটর কার্ড ঝুলিয়ে চলে গেলাম৷

বইয়ের সংগ্রহ যে অনেক বেশি তা নয়৷ আকর্ষণের মূল ব্যাপার হল, এখানে আব্দুর রাজ্জাক স্যারের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বইপত্রের পাশাপাশি আনিসুজ্জামান স্যারের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বইয়ের বিশাল কালেকশনও পাওয়া যায়৷ অতি সম্প্রতি এখানে আনিসুজ্জামান স্যারের ব্যক্তিগত সংগ্রহকৃত বইপত্র যুক্ত হয়েছে। এছাড়াও আছে আনিসুজ্জামান স্যারের বিভিন্ন সময়ে পাওয়া নানা ক্রেস্ট এর সংগ্রহ৷ দুইটা বড় কক্ষে আলাদাভাবে দুই জনের বইপত্র রাখা৷ আনিসুজ্জামান স্যারের বইয়ের ক্যাটালগিং এখনও চলমান৷

আমি ভেবেছিলাম খুব বেশিদিন হয়নি বিদ্যাপীঠটির বয়স৷ আমার ভাবনা ভুল৷ বিদ্যাপীঠটির বয়স ৮ বছর হতে চলল৷ সম্ভবত ২০১৫ সালের শেষের দিকে এটির যাত্রা শুরু হয়৷ আমি এত দিন পর জানতে পারলাম বলে খুব আফসোস হল৷ আমি চোখ কান বন্ধ করে চলি আর আমার মধ্যে নতুন কিছু জানার আগ্রহ নাই, এরকম ধরনের সেলফ-ডিসকাভারি হল৷ যাহোক, গ্রন্থাগারে নতুন বইয়ের সংযোজন প্রতিনিয়ত হয়েই চলেছে আর এসব বইয়ের এন্ট্রি গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সূত্র মেনে সম্পন্ন করা হচ্ছে৷ এরকম কর্মকান্ড চোখে পড়ল৷ নতুন বই পাওয়া যায় নিউ এরাইভাল স্ট্যান্ডে৷

বসার জায়গাগুলো বেশ৷ বড় থাই গ্লাসের দেয়ালের পাশে নরম সোফায় হেলান দিয়ে বসে পড়া যায়৷ আরও আছে ডার্ক চকোলেট রঙের কাঠের টেবিল আর বেঞ্চ৷ সাত তলা থেকে ঢাকার একটা সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়৷ আলো বাতাসের খামতি নেই৷ কৃত্রিম আলোর দরকার পড়ে না দিনের বেলায়৷ বিশাল আকাশের পুরোটাই যেন দেখা যায় থাই গ্লাসের দেয়াল দিয়ে৷

হালের দেশি বিদেশি পত্রিকা আর ম্যাগাজিনও পাওয়া যায়৷ দি ইকোনমিস্ট, দি টাইম আর রিডার্স ডাইজেস্ট এর মতো আরও অনেক ম্যাগাজিনের লেটেস্ট ইস্যু দেখলাম৷ দেশি প্রায় সব ধরণের পত্রিকা আর ম্যাগাজিনও পাওয়া যায়৷ আমি বৃটিশ কাউন্সিল ডিজিটাল লাইব্রেরীর একজন সদস্য৷ বিদেশী সব রকমের বইপত্র, পত্রিকা আর ম্যাগাজিনের ডিজিটাল ভার্সন খুব সহজেই পড়া যায়৷ কিন্তু প্রিন্ট কপি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখা আর পড়ার আনন্দ যে আলাদা তা সবাই জানে৷ বিদেশী ম্যাগাজিন বাংলাদেশে কিনতে পাওয়া গেলেও বেশ চড়া দাম৷ পশ্চিমবঙ্গের পত্রিকা আর ম্যাগাজিনই কিনতে হয় ১ রুপি ২ টাকা হিসেবে৷ ৩৫ রুপির “দেশ” কিনতে হয় প্রায় ১০০ টাকায়৷ সেই হিসেবে আমেরিকা আর ইউরোপের পত্রিকা ম্যাগাজিনের দাম পড়ে আরও বেশি৷ এই গ্রন্থাগারে সহজেই অ্যাক্সেস পাওয়া যাচ্ছে এসবের কিছু কিছু৷



আছে ডেস্কটপ কম্পিউটার ব্যবহার করার সুবিধা৷ ওয়াই-ফাইও আছে৷ সব মিলিয়ে আধুনিক আর আপডেটেড একটা গ্রন্থাগার৷ আস্তে আস্তে এটা সুবিশাল হয়ে উঠবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়৷ রাজ্জাক স্যার আর আনিসুজ্জামান স্যারের ব্যক্তিগত সংগ্রহের বইপত্র নেড়েচেড়ে দেখার এবং পড়ার এমন সুযোগ তৈরী করার পেছনে রয়েছেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব আবুল খায়ের লিটু৷ ইনি সম্পর্কে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যারের ভাতিজা৷

সদস্য হওয়ার জন্য এক কপি করে পাসপোর্ট এবং স্ট্যাম্প সাইজের ছবির সাথে লাগে এন আই ডি অথবা পাসপোর্ট এর ফটোকপি৷ কোন টাকা লাগে না৷ এসব কাগজপত্র সাথে নিয়ে গেলেই সদস্য হয়ে যাওয়া যাবে৷◼️

বই থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *