আমি চেয়েছি হতে নিরুদ্দেশ!নিতে চেয়েছি ছুটি।
চেয়েছি পালাতে জীবন থেকে,চেয়েছি অনন্তর-নিরন্তর মুক্তি।
মিশতে চেয়েছি আকাশ-জমি মিলনস্থলে,
ডুবতে চেয়েছি সাগর-নদীর মোহনায়।
মিলিত হতে চেয়েছি ভূ-ত্বকের ধুলিকণায়,
হারাতে চেয়েছি গগণের নীলিমায়।
ঘণ-গাঢ় সবুজ বনানী ডাকে আমায়
দর্শণার্থে তার নিঝুম সৌন্দর্য!
ভীতসন্ত্রস্ত অসহায় আমার মননকে অনুপ্রেরণা যোগাতে অগ্রসর হয়ে আসে
লক্ষ-কোটি জোনাকির সংঘ।
অগণিত তারকারাজির মেলা অভ্যর্থনা জানায় আমাকে তার নীলাভ আলোর ঈষৎ আভায় স্নাত হতে।
দখিনা হাওয়াও আমাকে মৃদু তৃপ্তি দিতে
যোগ দেয় সেই সভাতে।
ক্ষণিক আমোদে উদ্বেলিত করতে আমায়
ডানা ঝাপটে উড়ে আসে প্রজাপতির দল!
সহস্র ঝিঁ ঝিঁ পোকা গেয়ে উঠে,হয়ে যায় গীতি শতদল।
সবুজ দূর্বাঘাস বিছিয়ে দেয় গালিচা হতে আমার চলার পথের সহায়িকা।
স্বাগত জানাতে অবিরাম গতিতে ছুটে চলে অনাবিল ঝর্ণাধারা।
আমার নেত্রের অশ্রু মোচনে নয়নযুগলে মিশে যায় মোর গগনের নীহারিকা।
দুঃখ ধুয়ে দিতে বর্ষিত হয় অবারিত বারিধারা।
স্বাগত জানাতে ছুটে আসে আমায় গোটা বসুন্ধরা!
যে আমাকে নিয়ে মহান আল্লাহ্ প্রদত্ত প্রকৃতির এত আয়োজন!
পারলে না করতে তুমি তারে তোমার প্রিয়জন।
শত অবহেলা,অতৃপ্তি আর আক্ষেপ নিয়ে
জমাব পাড়ি ওপারে না ফেরার দেশে,
থাকব হয়ে তাই শঙ্খচিল শালিকের বেশে।
এভাবেই কেঁটে যাবে মোর জীবনকাল,
মত্যু এসে অবশেষে করে দিয়ে যাবে মোর জীবনের অবসান!!
