প্রিয়তমা আমার, তোমার সুখের জন্য বেচতে চেয়েছি আকাশ;
শরতে জমাট নির্মল নীলের তলায় সফেদ মেঘে সূর্যের আলো,
আষাঢ়ের কৃষ্ণচাদরে লুকানো পবিত্র জলধারা,
অস্তাপারের আবির রঙা লাল, সাতরঙা রঙধনু।
স্যাটেলাইট, আর্টিফিসিয়াল উপগ্রহ আর সাম্রাজ্যবাদী
জঙ্গীবিমানের ভয়ে খদ্দের মেলেনি তার।
প্রিয়তমা আমার, তোমার জন্য বেচতে চেয়েছি চাঁদ;
বিপুল নক্ষত্ররাজির মাঝে সুগোল তোমার টিপের মতোন।
ভরা পূর্ণিমার মায়াভরা রাতের অদ্ভূত রূপালি আলো।
বেচতে চেয়েছি পউষের মাঠজুড়ে জমাট সরিষা ফুলের মতোন
আঁধারের ফাঁকগ’লে ছোটা জোনাকির স্বপ্নিত আলো।
জানালায় জ্যৈষ্ঠের জ্যোৎস্নামাখা রাতে প্রেমিকার বিছানায়
স্পর্শের মতো একফালি নরম আলো, তারাদের প্রেম।
তারপর যাচাইয়ের যাঁতাকলে হারিয়েছে তার সব আবেদন
বিজলী আলোর চোখধাধানো তীব্রতায়।
প্রিয়তমা আমার, তোমার জন্য বেচতে চেয়েছি কবিতা
শব্দ ও ছন্দের ঠাসবুননে পূর্ণ নিখাঁদ প্রেমে।
পরতে পরতে তার প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রজাপতি অনুষঙ্গ।
দুঃখ চাদরের উল্কি, ফুল হয়ে ফিরেছে তারা
অর্থ, বিত্ত আর প্রতিষ্ঠার কাছে পরাজিত হতে হতে হয়ে।
অর্পিতা, আমার প্রিয়তমা, প্রেমিকা তুমি এক কবির;
কবিতা, মায়া, প্রেমহীন এক যান্ত্রিক জান্তব শতাব্দি’র।
চাঁদের আলো, আকাশের নীল, মেঘের রঙ, উজ্জ্বল দ্যূতি
সাগরের ঢেউ, পুষ্পিত বাতাস, নদীর স্নিগ্ধতা বিকোয় আর
সেরদরে বিকানো বিবেক, বোধ ও মনুষ্যত্বের হাটে।
অর্পিতা, তোমার জন্য বেচতে চেয়েছি সব
বেচতে চেয়েছি প্রেম; হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা
শুধু, তোমাকে পাবার দামে…….
১৪ নভেম্বর ২০২১। জাদুনগর।