তুমি আসোনি ফিরে তাই!
বসন্ত আর ফিরে আসেনি কভু মোর হৃদয়ের অঙ্গনে।
পাখিরা আর ডাকে না কভু কিচির-মিচির রবে বৃক্ষের শাখাতে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
ফাগুন পবন আর আসেনি ফিরে কভু মোর বসুন্ধরাতে, ডাকেনি কোকিল কুহু স্বরে।
ভ্রমরও আজ হয়ে গেছে পথভোলা, আসেনি ফিরে কুসুমবাগে, আসেনি পুষ্প মন্ডিত কনকাঞ্জনে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
দক্ষিণা সমীরন বহে না আর মোর গৃহের বাতায়ন ভেদ করে।
বর্ষারাও আজ আর আসে না তোমার বিহণে তার স্নিগ্ধময় পরশ নিয়ে এই তপ্ত ভূত্বকে,এই মরুর বুকে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই !
ডাকেনা আর ভোরের পাখি, ছড়ায় না দীপ্তি আর রবি এই ধরাতে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
ফুলেরাও আজ ছড়ায় না তার সৌরভ ঠিক আগের মত করে আমার বসুন্ধরা জুড়ে।
পড়ন্ত বিকেলে ঘরে ফেরার আগ্রহ চিত্তটাও গেছে কমে।
বিকেলটাও আজ বড্ড অমলিন!
ছড়ায় না রবি তার আলোকচ্ছটা গোধূলি লগনে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
গভীর সোহাগে ডাকে না আর ঘাটের মাঝি তার নায়ে করে ওপারে যেতে।
নকশি কাঁথায় ফুটিয়ে তোলে না বধূ তার আবেগ অনুভূতি অতীব যতনে।
বৃক্ষরাও আজ হয়েছে ফলহীন, ফোঁটেনা পুষ্প আর কাননে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
প্রবল অনুরাগ ও গভীর অভিমানে বসে থাকে না আর কেউ মোর অপেক্ষাতে নিশি জেগ।
কেনা হয়নি আর লালফিতা, নীল টিপ, রেশমি চুড়ি তোমায় সাজাতে।
আলতা কাজল আজ আর হয়না কেনা তোমার বিরহে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
থেমে গেছে আজ স্রোতস্বিনী নদীর কলতান, পাহাড়ি ঝর্ণাধারাও আজ ভুলে গেছে সাগরের রাস্তা, গতিপথ তার গেছে বেঁকে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
কতকাল মাড়াই না শিশির ভেজা দুর্বা ঘাস!
করি শুধু অলস দুপুরে বিষন্ন মনে শুধুই তোমার জন্য হাঁসফাঁস।
খোলা পড়ে আছে স্মৃতির কপাট অবহেলে, বক্ষে জমা পড়ে থাকে চাপা অভিমান।
তুমি আসোনি ফিরে তাই!
কে বলেছে হায়?
আজো আমি গোরস্থানে যাই তোমার যিয়ারতে।
ক্রন্দণরত নয়ন আর ক্ষরণরত মানস নিয়ে
ফিরে আসি মোর গৃহে ভগ্ন মনোরথে।
তুমি আসোনি ফিরে, আসবে না আর কভু তাই অসুখী আজ আমি।
এভাবেই জীবন কেঁটে যায় মোর এই ধরাধামে।
তুমি আসোনি ফিরে তাই,,,,,,,!
