প্রথম পাতা » গল্প » একুশের গল্প: রক্তে কেনা বাংলা ভাষা

একুশের গল্প: রক্তে কেনা বাংলা ভাষা

21 February

শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড় ঘেঁষে আছে লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস। মিলটিতে আগের মতো নেই শ্রমিকদের ঘন পদাচারণ। তাঁতের খটখট ঝুমুর ঝুমুর ছন্দও নেই। ২০২০ সালের জুলাই মাসে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

মিলটি বন্ধ হওয়ার পরে গাছগাছালি নিরাপদ বেড়ে উঠছে। গাছগুলিতে অনেক পাখপাখালিরও বেশ সমাগম ঘটেছে। জালালি কবুতর মিলটিতে আগে থেকেই স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে। মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়াতে কবুতরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে এসেছে কটি বানর তারাও স্বাধীনভাবে এগাছ ওগাছে রাজকীয় হালে ঘোরাঘুরি নাচানাচি করে, মনে হয় সবকিছুই তাদের একক সত্তা।

বসন্ত আগমনের বার্তা দিচ্ছে ক’দিন থেকে কোকিল কোকিলা। মিলের চার পাশের দেয়াল ঘেঁষে রয়েছে সারিবদ্ধ নারকেল গাছ। নারকেল গাছের মাঝে মাঝে অনেক গাছই দাঁড়িয়ে রয়েছে। মনে হয় যেনো এ সব গাছ মিলের নিরাপত্তা রক্ষীদের সাথে নিজেরাও পাহারাদারের কাজে নিয়োজিত আছে।

সব গাছ ডিঙ্গিয়ে মিলের পূর্বপাশে শোভা বিলাচ্ছে একটি কৃষ্ণচুড়া গাছ। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরের মাঘ মাস শেষে হলে, এই ফেব্রুয়ারি মাসে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফুটে ভাষার মাস আগমনের জানান দিচ্ছে। বর্তমানে কৃষ্ণচূড়া গাছটি নিয়েই যেনো সকল পাখিদের আয়োজন। প্রতিদিন সকাল হতেই গাছটিতে নানা প্রজাতির পাখি, ভ্রমর ও মৌমাছিরা ব্যস্ত হয়ে উঠছে। সবাই যেনো ফুলে ফুলে বসে কানে কানে বলছে হে ফুল, সকল জানোতো তোমরা? তোমাদের গায়ের রং এতো উজ্জ্বল হওয়ার কারণ? ফুলগুলো পাখি ও মৌমাছিদের কানে কানে বলছে হ্যাঁ হ্যাঁ জানি। জানি দেখেইতো আমরা ভাষা আনন্দে শহীদ ভাইদের প্রাণভরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ফুটেছি। তখন সকল পাখি ও মৌমাছির কণ্ঠে গুণগুণ করে করে বেজে ওঠে শহীদ স্মৃতি অমর হোক।

বাংলা ভাষার বিস্তার হোক দেশ থেকে, দেশান্তর। তাদের সাথে ফুলগুলোও বলে আমাদের কেউ নষ্ট করবে না, আমরা এই ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা ভাষার বিজয় সৌরভ বিলিয়ে, শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঝরে চলে যাব আড়ালে। আর তোমরা উড়ে উড়ে বিভিন্ন দেশে গিয়ে এই বাংলাভাষা অর্জনের রক্তিম ইতিহাস ভিনদেশিদের কাছে তুলে ধরবে। সেই সাথে বলবে রক্তে কেনা বাংলাভাষা বেঁচে থাকুক চিরকাল,শহীদ স্মৃতি বিস্তার হোক। অমর হোক রফিক, শফিক, বরকত জব্বার।

** কুড়িগ্রাম  থেকে।

গল্প থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

মো. আশতাব হোসেন
গ্রাম: ইসলামাবাদ, ডাকঘর: বলদিয়া; ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *