প্রথম পাতা » গল্প » বিভ্রম

বিভ্রম

Hallucination

ধর্মেশ্বর একজন চিকিৎসক। যথেষ্ট পরিমাণ পড়ালেখা করেছেন, দেশে ও প্রবাসে পড়ালেখা সহ ট্রেইনিং নিয়েছেন। তারপরও তিনি শহর ছেড়ে – জেলা শহর ছেড়ে অন্ধগ্রাম থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে আছেন। সম্ভব হলে হয়তো আরও গ্রাম বা চরাঞ্চলে চলে যেতেন। ধর্মেশ্বর নিতান্ত একজন ভালো মানুষ, আর তাই হয়তো জীবনে তাঁর তেমন চাহিদাও নেই।

ইদানিং ধর্মেশ্বরের শখ হয়েছে একটি ভালো আধুনিক ক্যামেরা কিনবেন। নতুন ঝকঝকে ক্যামেরা হাতে পাওয়ার পর মনে হলো, গ্রামের খাল বিল নদী সবকিছুই যেনো ছবি তোলার মতো সুন্দর। পুরোনো বাড়ি, গাছের ছায়া সবকিছু।

সেদিন সন্ধ্যার একটু আগে নদীর পাড়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। আকাশে তখন শেষ বিকেলের আলো। নদীর ওপারে কুয়াশা জমতে শুরু করেছে। দূরে কয়েকজন জেলে নৌকা নিয়ে মাছ ধরছিলো। দৃশ্যটি ছবি তোলার মতো। ধর্মেশ্বর ক্যামেরার লেন্স ঠিক করে বেশ কয়েকটি ছবি তুলেন। একটি যখন জেলে জাল ছুড়ছিলেন। আরেকটা যখন নৌকায় জেলে জাল গোছাচ্ছেন। শেষ ছবিটি তুলেছেন একটু দূর থেকে নদীর মাঝে ডুবন্ত সূর্য আর একাকী নৌকায় বসা জেলে। ধর্মেশ্বর প্রতিটি ছবি তিন চারটি করে তুলেছেন।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিলো। তাই ধর্মেশ্বর বাড়ি ফিরে এলেন। রাতে কম্পিউটারে ছবিগুলো ডাউনলোড দিলেন। প্রতিটি ছবি খুবই সুন্দর হয়েছে। ছবির ফ্রেমিং, ছবির আলো সবই।

ধর্মেশ্বর কম্পিউটারে দ্বিতীয় ছবি দেখেন – একই সমস্যা।
ছবিতে নৌকা আর জেলে নেই।

তৃতীয় ছবিতে তিনি হতবাক হয়ে অনেক্ষন কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকেন।
এই ছবি ধর্মেশ্বর ক্যামেরায় তোলেননি। ছবিতে – নদীর পাড়ে একটি তাল গাছ। তাল গাছে শকুন আর শকুন! – অথচ এতো শকুন দেশে থাকার কথা না। শকুনের ধারালো ঠোঁট, এমনকি শকুনের চোখ। শকুনগুলো অস্বাভাবিক রকমের স্বাস্থ্যবান। প্রত্যেকটির চোখ যেনো ক্যামেরার দিকেই তাকানো।

গল্প থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

Lantern
ঠাকুরমাহমুদ
sometimes blue sometimes white sometimes black even red, even golden ! yes dear - its me - i am sky ! color your life, than your life will be colorful

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *