এভারেস্টের নাম একজন সার্ভেয়ারে নামে নামাঙ্কিত। সার্ভে জর্জ এভারেস্ট প্রথম এর উচ্চতা নিরূপণ করেন। কিন্তু যতদূর শোনা যায়, তারও পূর্বে রাধানাথ শিকদার নামক একজন বাঙ্গালি এর উচ্চতা নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু ইংরেজগণ তা গ্রাহ্য না করেই হেসে উড়িয়ে দেন। তিব্বতের পাদদেশে হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ‘মাউন্ট এভারেস্ট’। নানা রহস্য, নানা কাহিনী, নানা কল্পনার রাজ্য এই এভারেস্ট। জয়ের নেশা মানুষের চিরদিনের। সেই নেশাই নিবারণ করতে মানুষ দিয়েছে তার অমূল্য জীবন। কিন্তু শেষ পর্যন্তু ঠিকই পৌঁছতে পেরেছে আপন গন্তব্য কল্পনার সেই এভারেস্টে।
এভারেস্ট জয়ের প্রথম তোড়জোড় শুরু হয় প্রথম মহাযুদ্ধের পর থেকেই। এর পূর্বে ভারত ও তিব্বত সরকার পর্বত আরোহনে আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার মধ্যস্থতার মাধ্যমে দুই সরকারের অনুমতি গ্রহণে সমর্থ হয়। অবশেষে ১৯২১ সালে কর্নেল সিকে হাওয়ার্ড বেরী প্রথম অভিযান শুরু করলেন। এই দলেরই এক দুঃসাহসী সদস্য ম্যালরি ১৯১০০ ফুট বা ৭১০৪ মি. উচুঁতে এভারেস্টে পৌঁছানোর একটি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য রাস্তা খুঁজে বের করেন। এগুলো হল নর্থ কোল ও সাউথ কোল।
১৯২২ সালে আবারও পথ ধরলেন ম্যালরি। সঙ্গে আরও ছিলেন সামারভেল, নর্টন ও ফীঞ্চ। গতবারের অভিযান ব্যর্থ হলেও কেউ মনোবল হারালেন না। তেরজন দক্ষ ইংরেজ পর্বত আরোহী এবং ষাট জন শেরপাও এগিয়ে এল। হঠাৎ তুষার ধসে ৬ জুন রাতে সাতজন শেরপা হারিয়ে গেল। বহু চেষ্টার পর মাত্র তিনজনকে খুঁজে পাওয়া গেল। ২৬ মে তারিখ পর্যন্ত সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ২৭৩০০ ফুট। দুর্ভাগ্যবশত এবারও ব্যর্থ হল অভিযান। আবারও ফিরে এলেন সবাই। সাল ১৯২৪ । ১৯৯৮ সালে একদল অভিযাত্রী মৃত অরভিনের লাশ খুঁজে পায় প্রায় অক্ষত অবস্থায়। তার পরনে ছিল সাতটি কাপড়। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, অরভিনের দেহে তেমন কোন ক্ষত চিহ্ন ছিল না। বরফের উষ্ণতায় বেশ স্বাচ্ছন্দেই ছিল তার দেহ। তবে কি করে তারা হারিয়ে গেছিল? এর সঠিক উত্তর অরভিনের হারানো ক্যামেরাই দিতে পারবে। তবে সেটা উদ্ধার করা যায়নি।
১৯৫১ সালে এরিক শিপ্টন একটি নতুন পথ আবিষ্কার করলেন, তবে এ অভিযান ব্যর্থ হল।
১৯৫৩ সাল। এগিয়ে এল আরেক দল অভিযাত্রী। দলে ছিলেন কর্ণেল জনহান্ট, এডমন্ড হিলারী, নেপালী তেনজিং নোরগেসহ অনেকে। ২৮ মে তারিখে দল ৮৪৭৩.৪ মি. উঁচুতে অষ্টম তাঁবু গাড়লেন। ২৯ মে ভোর ছ’টায় তাঁবু থেকে বের হলেন। অতঃপর নাশতা করে আবারও রওনা হলেন। নয় নং তাঁবুতে পৌঁছান মাত্র দলে যেন আনন্দের জোয়ার বয়ে গেল। আর মাত্র ৮৮০ গজ পথ বাকি। ঠিক সকাল এগারটায় শেরপা তেনজিং এভারেস্ট পদানত করলেন, তারপর নিউজিল্যান্ড অধিবাসী হিলারী। তেনজিং চটপট ভারত, নেপাল ও নিউজিল্যান্ডের পতাকা পুঁতে দিলেন। কয়েকটা ছবি তুলে চারদিকে তাকিয়ে দেখলেন।
১৯২১ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্তই এভারেস্টে উঠেছেন মাত্র ৯৮১ জন। মোট সফল আরোহনের সংখ্যা ১৩১৮টি। তবে অনেকেই একাধিকবার উঠেছেন। নেপালের বাবু শিরি শেরপা একাই প্রথমবার ২০০০ সালে ষোল ঘণ্টায় এবং দ্বিতীয় বারও একাই ২০০৩ সালে চৌদ্দ ঘণ্টায় এভারেস্টে ওঠার রেকর্ড করেছেন। বিখ্যাত বহু পর্বত আরোহী ও জীবন হারিছেন। এদের মধ্যে রব হল, জো স্টাকার, স্কট ফিশার, পিটার বোর্ডম্যান, ম্যালরিও অরভিনও রয়েছে। আজ পর্যন্ত ৫৫ জন নেপালী, ভারতের ১১জন, জাপানের ১৩, ব্রিটেনের ১২ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৭জন অভিযাত্রী প্রাণ হারিয়েছে।
