অর্পিতা, বিজ্ঞাপনে ছেয়ে গেছে তোমাদের শহর
গলির মোড়, কারখানার বারান্দা, বৃক্ষের শাখা, পত্র-পল্লব,
আইল্যান্ড, রাস্তার দুইধার, বেশ্যালয়ের জীর্ণ বেড়া,
সরকারি অফিস, বাসের জানালা, ফেরির বাথরুম,
স্কুলের পলেস্তরা খসা দেয়ালে আঁকা নজরুল-রবীন্দ্রনাথ
এবং জানালায় দাড়ানো গৃহিনীর উজ্জ্বল মুখায়ব;
সবকিছু কেড়ে নিয়েছে অমুক-তমুকের রঙিন বিলবোর্ড।
সুশ্রী নারীর রমণীয় ঠোঁটে লালরঙা উচ্ছ্বল হাসির সাথে
ফ্রিজ-টিভি, মোটর, চিপস-চানাচুর ব্যাংক-বীমা, হাবিজাবি,
ইমারজেন্সি কন্ট্রাসেভটিভ পিল, সেনসেটিভ নিরোধক,
স্যানিটারি ন্যাপকিন, সব, বেঁচতে-কিনতে ও গছাতে চাই;
যা কিছু অর্থে বিনিময়, কেবল ভালোবাসা বিহীন।
অর্পিতা, আমার হৃদয়শহরের দেয়ালে দেয়ালে
দ্যাখো, একটিই ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন; প্রেমিকা চাই।
অসংখ্য গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর কিংবা আষাঢ়ের বর্ষণমুখর
সন্ধ্যা কাটাতে, প্রেমিকা চাই।
জ্যোৎস্না স্নানের রাতে- হাতে হাত, শরীরে শরীর, ঠোঁটে ঠোঁট রাখতে, প্রেমিকা চাই।
শহরের হোটেল, মোটেল কিংবা নির্জন ফ্ল্যাটের আবদ্ধ রুমে
চুমুতে ও প্রেমে, শীৎকারে, ঘামে, প্রেমিকা চাই।
সিগারেটের ধোঁয়ায়, মদের আড্ডায়, ভরা গবলেটের মত
উপচানো যৌবনে চিয়ার্স বলা প্রেমিকা চাই।
সমাজ, সংসার তুচ্ছ করে নষ্ট হওয়ার মতো
আমার একজন প্রেমিকা চাই।
অর্পিতা, আমার হৃদয়শহরে ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন:
নষ্ট হওয়ার মতো, নষ্ট করার মতো; প্রেমিকা চাই।
