তোমার শিহরণ গাঙ ফরিঙের গোত্তা খাওয়ার মতোন
তোমার কম্পন আচমকা উড়ন্ত পাখির ফেলে যাওয়া ডালে
সুপ্তিভাঙা সবুজ পাতার মতোন ভীত সন্ত্রস্ত। প্রেমময় স্পর্শে।
তোমাকে ছুঁয়েছি ভালোবাসায়; সাক্ষী এই হাত।
তোমার ঠোঁটের লবণাক্ততার স্বাদ, নোনতা ঘাম,
ওষ্ঠপুটের নরোম লোমে পালকের পেলবতা,
চুম্বনে তোমার আগ্রাসন বাহাত্তর হাজার নদীতে
মাতাল জোয়ার তোলার সক্ষমতা।
নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষায় আমাকে বানিয়েছে কলম্বাস।
তোমাকে চুম্বন করেছি ভালোবাসায়, সাক্ষী আমার ঠোঁট।
তোমাকে আলিঙ্গনের সুখ নিদাঘ দুপুরে
পুকুরের তলানিতে জমা জলের স্পর্শের মতোন প্রাণজুড়ানিয়া।
দীর্ঘদিনের বর্ষণ শেষে পুঁইমাচায় লুটানো এক টুকরো রোদে
জলের ঝিলিমিলির মতোন উজ্জ্বল, আনন্দময়।
কবুতরের ডিমের মতোন স্ফীতা মাংসপিণ্ডের তলে
শিকারির ফাঁদে আটক ভীতা ডাহুকের ছটফটানি।
সাওমের দীর্ঘদিন শেষে ভরপেট তবুও আরেকটু
শীতল জলের জন্য রোজাদারের আকুলতা।
তোমাকে আলিঙ্গন করেছি ভালোবাসায়, সাক্ষী এই বুক।
গ্রীষ্মের দমবদ্ধ গরম দুপুরে আবদ্ধ রুমের ঘর্মাক্ত হাওয়ায়,
হেমন্তের উনপাঁজুরে শীতে পেলব চাদরের তলে,
শীতার্ত কুহেলিকায়; প্রবল গাঢ় কুয়াশার
বুককেটে নামা জ্যোৎস্নাময়ী মায়াময় রাতে,
বসন্তের ফুলেল দিনে, পাখিদের কলকাকলি তানে,
কিংবা নিরব নিবিড় শরৎ কাশফুলের মৃদু দুলুনিতে,
অথবা তুমুল বর্ষার মতোন তীব্র তুমুলতায় করেছি স্নান।
সমূদ্রে, নোনাজলের প্লাবণে তোমাতে; শরীরে শরীর মেখে।
অর্পিতা, তোমাকে দিয়েছি সব, সাক্ষী তুমি, আমি ও আমরা।
২১শে মে, ২০২৬ খ্রি.
জাদুনগর।
