প্রথম পাতা » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » কাগজ কলমের বদলে রাজত্ব করবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ই-বুক

কাগজ কলমের বদলে রাজত্ব করবে ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ই-বুক

E-book

ই-বুক বা ইলেকট্রনিক বই আসলে ঠিক কিভাবে এবং কবে চালু হয়েছে তা বলা মুশকিল। ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য যে সব সফটওয়্যার প্রকাশ হতো সেগুলোর সঙ্গে ডকুমেন্ট ম্যানুয়াল ব্যবহারবিধি জুড়ে দেওয়া হত। দেখা যেত প্রিন্টেড কপির চেয়ে ইলেকট্রনিক কপি ব্যবহার সহজ এবং দামেও অনেক সস্তা হত। এইচটিএমএল ফরম্যাটে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রসার ঘটায় এবং ওয়েব পেইজের মাধ্যমে প্রচুর বই, আর্টিকেল প্রকাশিত হতে লাগল। সহজ লভ্যতা এবং সহজ ব্যবহার সুবিধার জন্য এদের প্রচার খুব দ্রুত হতে লাগল।

কিন্তু ব্যবসায়িক মনোভাবাপন্ন প্রকাশকরা নিরাপত্তার ভয়ে তখনও আগলে রাখল তাদের গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের ভান্ডার। কেননা একবার বইটির ইলেকট্রনিক কপি হাতে পেলে যে কেউ সেটি ব্যবহার করে নতুন করে প্রকাশ করতে পারে। পরবর্তীকালে এডবি পিডিএফ ফরম্যাট আবিষ্কার করলে এবং সেটি ব্যবহার করে সহজে বিতরণ এবং খুবই প্রকাশের সুরক্ষিত নিরাপত্তা সুবিধা দিলে ই-বুক খুব দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। হয়ে যায় সহজলভ্য। পরবর্তীকালে মাইক্রোসফট তার স্বভাব সুলভ ভাবে এডবির সুনাম ব্যবহার করে ই-বুক মার্কেট দখল করতে মাইক্রোসফট রিডার প্রকাশ করে। এই অভিজ্ঞতাকে আরো একধাপ এগিয়ে দিয়েছে টেক্সট থেকে ভয়েস কনর্ভাসন (কন্ঠস্বর সংস্করণ) সফটওয়্যারগুলো। এই সফটওয়্যারগুলো আপনার বইগুলো পড়ে আপনাকে শোনাতে পারবে। এর ফলে আপনাকে আর কষ্ট করে বই পড়তে হবে না। বর্তমানে ই-বুক খুবই জনপ্রিয় একটি প্রকাশনা মাধ্যম। তবে আশা করা যায় ভবিষ্যতে টুডি ই-বুকের জায়গা দখল করে নেবে থ্রিডি ই-বুক।

বিভিন্ন ই-বুক এইচটিএমএল ফরম্যাট বা পিডিএফ ফরম্যাটে থাকলে সেটি এই সফটওয়্যার দিয়ে অনায়াসে পড়া যায়। এডবি করপোরেশনের একটি অনবদ্য সৃষ্টি পিডিএফ ফাইল ফরম্যাটটি। পুরোনো শক্তিশালী জনপ্রিয় ফাইল ফরম্যাট পোস্টস্ক্রিপ্টকে আধুুনিকিকরণের মাধ্যমে এতে আরো বিভিন্ন ক্ষমতা প্রদান করে তৈরি করা হয়েছে এই পিডিএফ ফাইল ফরম্যাটটি। শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কারণে এই ই-বুক কেউ কপি করতে পারবে না। তাই অসৎ ব্যবসার কোনো সুযোগও নেই।

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট থেমে থাকেনি। তারাও ই-বুক পাঠ করার জন্য মাইক্রোসফট সফটওয়্যারটি প্রকাশ করেছে। বাজারে আরো ই-বুক সফটওয়্যার থাকলেও এডবির পরে এই সফটওয়্যারটি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ই-বুকের সুবিধা অসুবিধা : বই পড়ার চেয়ে চোখের প্রয়োজন মতো এবং ইচ্ছে অনুযায়ী লেখার সাইজ ছোট বড় করতে পারেন। প্রয়োজনে টেক্সট রিডার সফটওয়্যার ব্যবহার করে পড়া শুনে নিতে পারেন বইটির। একটি মাত্র সিডিতে প্রায় কয়েকশ বই এটে যায়। তাই মাত্র কয়েকটি সিডিতে ভরে ফেলা যায় দুনিয়ার তাবৎ বই। প্রয়োজনীয় কোনো অংশ সহজে খুঁজে বের করা যায় এটি থেকে সহজে। বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে সহজে খুঁজে বের করতে যেমন কোনো চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তেমনি ই-বুকে ব্যবহার করতে পারেন বুক মার্ক। এগুলো দামেও খুব সস্তা।

অসুবিধাও আছে অনেক। আমরা যে কম্পিউটার ব্যবহার করি তা কিন্তু ভালো মাত্রায় রেডিয়েশন ছড়ায়। এ কারেণ এক নাগাড়ে কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা যায় না। ই-বুক পড়াটা তাই বিরক্তিকর ঠেকতে পারে। এছাড়া হতে পারে চোখের সমস্যা। তবে কিছু কিছু মনিটর আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলোতে এই সমস্যা নেই। তারপরও ই-বুকের জনপ্রিয়তা কিন্তু দিনদিন বাড়ছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের প্রসারে এর চেয়ে ভালো পদ্ধতি আর কিইবা হতে পারে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

S M Mukul
এস এম মুকুল
লেখক-কলামিস্ট, হাওর ও কৃষি অর্থনীতি বিশ্লেষক

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *