মিসাইল কেন আকাশের দিকে ছোড়া হয়?
মিসাইল বা মর্টার শেল সাধারণত আকাশের দিকে কোনো নির্দিষ্ট কোণে ছোড়া হয় যদিও লক্ষ্যবস্তু আকাশে নয়, মাটিতেই হয়তো বেশ কিছু দূরে। বিমানবিধ্বংসী কামানের গোলা অবশ্য আকাশের দিকে ছোড়াই স্বাভাবিক, কারণ লক্ষ্যবস্তু বিমান তো আকাশেই অবস্থান করে। কিন্তু অনেক দূরের কোনো গ্রাম যদি লক্ষ্যবস্তু হয় তাহলে কামানের গোলা ভূমির সমান্তরালে না ছুড়ে আকাশের দিকে ছোড়া হয়।

এর সহজ ও বোধগম্য কারণ হলো লক্ষ্যবস্তুর পথে অনেক গাছপালা, ঘর-বাড়ি, পাহাড়-পর্বত থাকে, যা এড়ানোর জন্য অনেক উঁচু দিয়ে গোলা মারতে হয়। কিন্তু পথে যদি বাধা না থাকে তাহলেও সাধারণত আকাশের দিকেই গোলা তাক করা হয়, এর কারণ হলো কামানের গোলা ভূমির সমান্তরালে ছোড়া হলে সেটা বেশি দূর যেতে পারে না, ফলে দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয় না।
লক্ষ্যবস্তু কাছে থাকলে অবশ্য সমস্যা নেই, সরাসরি আঘাত হানা যায়, কিন্তু দূরে হলে সমস্যা। যে- কোনো বস্তু ছুড়ে মারলে তার ওপর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং বাতাসের বাঁধা ক্রিয়া করে। ফলে ছুড়ে মারা বস্তুটি নির্দিষ্ট দিকে সরলরেখায় না চলে ধনুকের মতো বাঁকা হয়ে মাটিতে পড়ে। সে জন্য দূরের কোনো লক্ষ্যবস্তু যদি বাধাহীন অবারিত খোলা প্রান্তরে মাটির ওপরও থাকে তাহলেও গোলাটি অনুভূমিকা না ছুড়ে আকাশের দিকে ছোড়া হয়। এতে গোলাটি বাতাসের বাধা কম পায় এবং বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। অবশ্য নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে হলে কামানের মুখ কত ডিগ্রি কোণে আনত করতে হবে সেসব অনেক হিসাব-নিকাশ করে নির্ধারণ করার পর গোলা ছোড়া হয়।
রিমোট কন্ট্রোল কিভাবে কাজ করে

রিমোট কন্ট্রোল হলো আধুনিক প্রযুক্তিবিদ্যার একটা দূর নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এই পদ্ধতি ৩টি ভাগে বিভক্ত। প্রথমে ট্রান্সমিটার বা প্রেরক যন্ত্রটি একটি নির্দিষ্ট কম্পনমাত্রার বেতার তরঙ্গ সৃষ্টি করে। যার একটা নির্দিষ্ট প্রকৃতি রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রেরক যন্ত্র থেকে সম্প্রচারকৃত বেতার তরঙ্গকে রিসিভার বা গ্রাহক যন্ত্রের মাধ্যমে ধারণ করা হয় এবং সংকেতটিকে নিয়ন্ত্রণ আখাঙ্কিত নিয়ন্ত্রণ সার্কিটের মাধ্যমে তা কাঙ্খিত হয়। তবে তাকে একটি আউটপুটে পাঠিয়ে দেয়া হয়। যা একটি রিলের কয়েলকে সক্রিয় করে তোলে। রিলটি সক্রিয় হয়ে যে সার্কিট বা যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে প্রেরিত সংকেতের মাধ্যমে তাকে সে ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে। এভাবেই রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে দূরে বসেও কাঙ্খিত যন্ত্রকে নিয়ন্ত্রিত করা যায়।
প্রাণী কেন ঘুমায়?

একথা অতি বাস্তব যে, ঘুমায় না এমন প্রাণী পৃথিবীতে বিরল। প্রাণীর জন্য যেমন আহার প্রয়োজন, তেমনি দরকার নিদ্রারও। না ঘুমিয়ে কারো পক্ষে বেশিদিন বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, একজন বয়স্ক লোকের প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো দরকার, শিশুদের প্রয়োজন আরও বেশী। পনেরো বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিটি ছেলে-মেয়েকে কমপক্ষে দশ ঘন্টা করে ঘুমানো উচিত। এখন প্রশ্ন এই ঘুম বলতে আসলে কী বুঝায়? প্রাণীরা কেন ঘুমায়? এটা আসলেই রহস্যময় ব্যাপার। বিজ্ঞানীদের ধারণা মানুষসহ অন্য প্রাণীদের দেহের রক্তে যে ক্যালসিয়াম আয়রন নামে রাসায়নিক চুন জাতীয় পদার্থ আছে এই বস্তুটি মাথার ঘুমকে নিয়ন্ত্রন করে। যখন মস্তিষ্কের কোষে প্রয়োজন মত ক্যালসিয়াম আয়রন প্রবেশ করে তখনি আমাদের শরীর দুর্বল ও নিস্তেজ হয়ে আসে এবং আমরা ঘুমিয়ে পড়ি।
গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, যদি ক্যালসিয়াম আয়রন রক্তের মধ্যে মিশিয়ে দেয়া যায় তখন আর ঘুম থাকে না। এতে অনুমান করা যায় যখন কোনো মানুষ অতিরিক্ত পরিশ্রম বা অন্যকোন কারনে শ্রান্ত হয়ে পড়ে তখন তার মস্তিষ্কের প্রায় সকল কাজ বন্ধ থাকে। চেতনা অকেজো হয়ে পড়ে আর শরীরের অধিকাংশ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঘুমিয়ে পড়ে। মন পরিনত হয় অবচেতনে। তবে রক্ত চলাচল ও পাকস্থলীর কাজ চলতে থাকে। ঘ্রান শক্তি সজাগ থাকে। সে কারনে ঘুমের ঘোরেও মানুষ সুগন্ধ ও দুর্গন্ধ বুঝতে পারে। তবে হৃদস্পন্দন কিছুটা কমে যায় এবং শরীরের তাপমাত্রা সামান্য কিছু হ্রাস পায়।
আমরা খাদ্যের সাথে লবণ খাই কেন ?

লবণ মুখে লাগলে মুখ থেকে এক প্রকার রস নির্গত হয়। এ রস হজমে সাহায্য করে। আবার পেটের ভিতরও হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) উৎপন্ন হয়। এটিও হজমের জন্য প্রয়োজনীয়। এ এসিড উৎপন্ন হবার সময়ও লবন লাগে। তাই খাবারে লবণ প্রয়োজনীয়।
সূর্য কেন ডোবে ও ওঠে?

পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারনেই এমনটা হয়। পৃথিবী প্রতি চব্বিশ ঘন্টায় তার অক্ষের চারিদিকে একবার ঘুরে আসে। আর এ ঘুর্ণনের ফলে পৃথিবীর উপরিভাগের যে অংশ সূর্যের সম্মুখীন হয় সে অংশে দিন হয় এবং বিপরীত অংশ অর্থাৎ যে অংশ সূর্যের আলো পায়না সে অংশে রাত হয়।
