প্রথম পাতা » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » মাথায় যত প্রশ্ন (পর্ব ৬)

মাথায় যত প্রশ্ন (পর্ব ৬)

Question in mind

ডুবুরি ন্যাপথালিনের গুলি

প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি= বড় মুখওয়ালা একটি কাঁচের গ্লাস, কয়েকটি ন্যাপথালিনের গুলি, সামান্য ভিনেগার, এবং সোডা বাইকার্বনেট।

গ্লাসটি পানি দিয়ে ভর্তি কর এবং তাতে কয়েক চামচ ভিনেগার এবং সামান্য সোডা বাইকার্বোনেট ঢেলে দাও যাতে কোন প্রচন্ড প্রতিক্রিয়া না হয় সেজন্য ইহা নাড়তে থাকি। সলিউশনটি যখন তৈরি হয়ে গেল তখন কয়েকটি ন্যাপথালিনের গুলি তার মধ্যে ঢেলে দাও। যখনি তুমি গুলিগুলো ঢালবে তখন একটি উত্তেজনাকর দৃশ্য লক্ষ্য করবে। এ গুলি তলদেশে পৌঁছে যাবে। কিন্তু সেখানে বেশিক্ষণ থাকবে না এবং ওপরে উঠে আসবে। যখন একেবারে উপরে উঠে পৌঁছে যাবে তখন আবার একেবারে তলদেশে ধাবিত হবে। এভাবে তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে এবং একটি চিত্তাকর্যক দৃশ্য দেখা যাবে।

নীল রঙের অগ্নিশিখা

লাল রঙের অগ্নিশিখা আমরা সবাই দেখেছি। কিন্তু আমরা হয়ত নীল রঙের অগ্নিশিখা সবাই দেখিনি। যদি দেখতে চাই তাহলে একটি পুরাতন “টেবল স্প্যুন” অর্থাৎ বড় ঝোলের চামচ নেই, ইহাতে কিছু স্পিরিট এবং কিছু “বোরিক এসিড” [অর্থাৎ আমরা “কেরামবোট” খেলতে যে বোরিক ব্যবহার করে থাকি]। এখন একটি জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি এর ভিতর নিলেই তোমার সামনে ভেসে উঠবে দৃশ্যমান নীল রঙের অগ্নিশিখা। ইতিপূর্বে এ রকম দৃশ্য কখনও দেখনি। কেমন মজার ব্যাপার তাই না।

এক জায়গায় অনেকক্ষন বসে থাকলে পা অসাড় হয়ে যায় কেন?

এক জায়গায় অনেকক্ষন বসে থাকলে শরীরের চাপের কারনে স্বাভাবিক রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে নার্ভ বা স্নায়ুগুলি অনুভূতি হীন হয়ে যায়। এক বার যদি ঐ চাপমুুক্ত করা যায় তা হলে আস্তে আস্তে আবার রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়ে স্নায়ুগুলি ও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ঐ অসাড় ভাবটা চলে যায়।

ঠান্ডা দুধের চেয়ে গরম দুধে বিস্কুট তারাতারি নরম হয় কেন?

বিস্কুটের কনা গুলো খুবই দুর্বল যোজক দ্বারা আবদ্ধ। গরম দুধের ঘনত্ব ঠান্ডা চেয়ে কম। তাই গরম দুধ অতি সহজেই বিস্কুটের শরীরে ঢুকে গিয়ে দুর্বল যোজক গুলোকে ভেঙ্গে দিয়ে বিস্কুটটাকে নরম করে দেয়। কিন্তু ঠান্ডা দুধ বেশি ঘন হওয়ায় বিস্কুট নরম করতে সময় বেশি লাগে।

সাইকেলের চাকায় হাওয়া দেয়ার সময় পাম্পটি গরম হয়ে যায় কেন?

পাম্প দিয়ে বাতাসকে চাপ দিয়ে টিউবের মধ্যে প্রবেশ করানো হয়। বাতাসকে চাপ দিয়ে সংকুচিত করলেই তাপমাত্রা বাড়বে। বার বার পাম্প দিয়ে বাতাস কে চাপ দেবার সঙ্গে সঙ্গে যে উত্তাপ সৃষ্টি হয় তা চট করে বিকীরিত হয়ে যেতে ও পারে না। যার ফলে ধাতুর সিলিন্ডারটি গরম হয়ে যায়।

ফাউন্টেন পেনের নিব দ্বিখন্ডিত থাকে কেন?

ফাউন্টেন পেনের নিব দুই ভাবে কাজ করে। একাধারে এটি একটি বালব বা কপাটিকা, অন্য দিকে এটি একটি নালী যা কালির প্রবহমানতা বজায় রাখতে সাহায্যে করে। লিখবার সময় একটু চাপ পড়লেই নিবের স্লিই বা কাটা অংশ সামান্য কাক হয় এবং খুব সূক্ষ্ম বা ক্যাপিলারির আকার ধারন করে। কালির প্রবাহ মানতা বজায় থাকে এবং আমরা লিখতে পারি।

মেয়েদের গলার স্বর মিহি হয় কেন?

মেয়েদের স্বরে কম্পাংক বেশী! স্বরযন্ত্রে যে দুটি পাতলা পর্দা থাকে এবং তার মধ্যে যে ফাঁক থাকে পুরুষদের ক্ষেত্রে সেটি খুব বেশী এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে তা কম। ফুসফুস থেকে বাতাস যখন ঐ ফাঁক দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসতে থাকে তখন পর্দা দুটো কাঁপতে থাকে। মেয়েদের স্বরযন্ত্রে ফাঁক কম থাকে বলে কম্পাংক বেশী। আর সেজন্যই মেয়েদের স্বর মিহি হয়।

মানুষ কালো বা ফর্সা হয় কেন?

কারনঃ (১) ত্বকের নীচে মেলানিন (Melanin) রঞ্জক পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকলে কালো হয়, কম থাকলে ফর্সা হয়।
(২) সৃষ্টি সম্বন্ধীয় কারনে (প্রজনন এর জন্য দায়ী)।
(৩) পারিবারিক ইতিহাসের শ্বেতবর্ন ত্বক।
(৪) পরিবেশগত কারনেঃ- অধিক ঠান্ডা, জলবায়ুর অধিক গরম।
(৫) কিছু বিপর্যস্ত অবস্থাঃ এ্যানিমেট মক্সিডিমা, জনডিস ইত্যাদি।

মানুষের মাথার চুল পাকে কেন?

কারনঃ চুলের Hair papilla (লোম, প্যাপিলাজ) যখন রঞ্জক পদার্থ তৈরী করতে পারে না তখন মাথার চুল পেকে যায় বা সাদা হয়ে যায়।

শীতকালে ত্বক ফেটে যায় কেন?

কারনঃ শীতকালে বায়ু শুষ্ক থাকে (আর্দ্রতা কম থাকে) বলে পরিবেশ হতে পানি বাষ্প হয়ে যায়, ফলে খাল বিলের পানি কমে যায়। গাছের পাতা ঝরে যায়। তেমনী মানুষের দেহ থেকে পানি শুকিয়ে যায়, ফলে মানুষ ও জীব জন্তুর ত্বক ফেটে যায়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

S M Mukul
এস এম মুকুল
লেখক-কলামিস্ট, হাওর ও কৃষি অর্থনীতি বিশ্লেষক

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *