কাগজের পাত্রে পানি ফুটানো সম্ভব হয় কিভাবে ?
পাতলা কাগজের সাহায্যে একটি পাত্র তৈরী করে তাকে পানি দ্বারা আংশিকভাবে পূর্ণ করার পর এ পাত্রে প্রয়োগ করলে পাত্রের পানিকে কেটলীর পানির মতো ফুটানো যাবে, কিন্তু কাগজ পুড়বে না। পাতলা কাগজের মধ্য দিয়ে তাপ খুব সহজেই চলে যায়। ফলে পানি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ফুটতে থাকে। তাই কাগজটি যথেস্ট গরম হতে পারে না এবং পুড়ে যায় না।
দিয়াশলাই এর কাঠিকে আঘাত দিলেই জ্বলে ওঠে কেন?

দিয়াশলাই এর কাঠির অগ্রভাগ এমন পদার্থ দিয়ে তৈরী যে, একে জ্বালাতে হলে কিছু তাপের প্রয়োজন। তাই একে আঘাত করলে অগ্রভাগে যে উত্তাপ হয় তাতেই এটি জ্বলে ওঠে।
একজন মহাশূণ্যচারী কখন নিজেকে ওজনহীন অনুভব করেন?

একজন মহাশূণ্যচারী মহাশূন্যযানে করে পৃথিবীকে একটি নির্দিষ্ট উচ্চাতায় বৃত্তাকার কক্ষপথে প্রক্ষিণ করে থাকেন। এই বৃত্তাকর গতির জন্য মহাশূন্যযানের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ঐ উচ্চতায় এর মানের সমান মানের একটি ত্বরণ হয়। এই অবস্থায় মহাশূন্যযানের দেয়ালের সাপেক্ষে মহাশূন্যচারীর ত্বরন (ম-ম)=০ অর্থাৎ শূণ্য হয় এবং মহাশূণ্যচারী মহাকাশযানের দেয়ালে বা মেঝেতে কোন বল প্রয়োগ করেন না। বলে তিনি নিজেকে তখন ওজনহীন অনুভব করেন।
পানি ঢেলে দিলে আগুন নিভে যায় কেন?

উত্তরঃ আগুনে পানি ঢেলে দিলে তা বাষ্পে পরিণত হয়। সেই বাষ্প ভেদ করে অক্সিজেন গ্যাস আগুনের কাছে গিয়ে পৌঁছাতে পারে না এবং প্রজ্বলিত পদার্থের উত্তাপ্ত এত কমে যায় যে, সেই উত্তাপে প্রজ্জ্বলন সম্ভব হয় না। ফলে আগুন নিভে যায়।
ব্রিজের উপর দিয়ে সৈন্য পার হবার সময় প্যারেড করে চলতে নিষেধ করা হয় কেন ?

প্রত্যেকটি জিনিসের একটি নিদিষ্ট কম্পাঙ্ক রয়েছে। ব্রিজের ও একটি নিদির্ষ্ট কম্পঙ্ক রহেছে। ব্রিজের উপর সৈন্যরা প্যারড করলে যে অনুনাদের সৃষ্টি হয় তাতে ব্রিজটি ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই ব্রিজের উপর প্যারেড করতে নিষেধ করা হয়।
বর্ষা কালে লবন গলে যায় কেন ?

লবনের রাসায়নিক নাম ঘধপষ অর্থাৎ সোডিয়াম ক্লোরাইড আমরা যে লবন খায় তাতে ভেজাল হিসেবে কিছু পরিমান ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড থাকে। যা পানি গ্রাসী পদার্থ। বর্ষা কালে বাতাসে প্রচুর প্ররিমান জলীয় বাস্প থাকে। তখন ঐ ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প শোষন করে নিজে গলে যায় পরে ঐ পানিতে কম বেশি মূল্য খাদ্য লবন গলে যায়। তাই একে বারে বিশুদ্ধ না হলে বর্ষা কালে খাদ্য লবন গলে যায়।
টেলিফোন, টেলিগ্রাম ও বিদ্যুৎ লাইনের তার গুলো ঢিলা থাকে কেন?

টেলিফোন, টেলিগ্রাফ ও বিদ্যুৎ লাইনের দুটি পোষ্টের মাঝখানে তারগুলো কিছুটা ঢিলা থাকে। এর কারন হচ্ছে শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস পেলে তারগুলো সংকুচিত হয়। তারগুলো টান-টান থাকলে শীতকালে সংকোচনের ফলে ছিঁড়ে যেতে পারে বা পোস্ট ভেঙ্গে যেতে পারে। তাই এগুলোকে ঢিলা রাখা হয় যাতে সংকোচন যথেষ্ট সুযোগ পায়।
চাকায় লোহার বেড় পরানো হয় কেন?
সাধারণত গরুর গাড়ির চাকায় লোহার বেড় লাগানো থাকে। এই বেড় কাঠের সাথে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে। সাধারণত তাপমাত্রায় এই বেড় চাকা ছোট হয়, তাই একে চাকার সাথে লাগানো যায় না। লোহার বেড়টিকে গরুম করলে এটি প্রসারিত হয়, ফলে এর ব্যাস বৃদ্ধি পায়। উত্তপ্ত অবস্থায় বেড়টিকে চাকার সাথে লাগিয়ে ঠান্ডা করা হয়। বেড়টি ঠান্ডার সংকুচিত হয়ে চাকার গায়ে দৃঢ় ভাবে লেগে থাকে।
শীত প্রধান দেশে পানির পাইপ কেটে যায় কেন ?
শীত প্রধান দেশে যখন পানি জমে রবফ হয় তখন এর আয়তন বৃদ্ধির জন্য নানা রকম অসুবিধা দেখা দেয়। পানির পাইপের ভিতরের পানি ঠান্ডায় বরফ হয়ে গেলে আয়তন বেড়ে যায়। ফলে পাইপের উপর যে প্রচন্ড চাপ পড়ে তাতে পাইপ কেটে যায়।
রঙিন কাচ গুঁড়ো করলে সাদা হয়ে যায় কেন?
রঙিন কাচ রঙিন দেখানোর কারণ হলো, সাদা আলো এর উপরে পড়লে কাঁচ নিজের বিশেষ রঙটি ছাড়া বাকি কটি রঙ শুষে নেয়। কাচকে গুঁড়ো বা ছোট ছোট করে ফেললে টুকরোগুলোর ওপরে আলো পড়ে তা এলোমেলোভাবে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। গোটা অবস্থায় কাঁচের মসৃণ তল থেকে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন হয়। কিন্তু গুঁড়ো অবস্থায় প্রতিফলন হয় অনিয়মিত। অনিয়মিত প্রতিফলনে শোষণ ক্ষমতা কমে যায়। এর ফলে গুঁড়ো রঙিন কাঁচ সবকটি রঙকেই ছেড়ে দেয় এবং তাকে সাদা দেখায়। কিন্তু এই কাচ গুঁড়োগুলোকে পানিতে ভিজিয়ে দিলে প্রতিফলন আবার নিয়মিত হয়ে যায় এবং সে তার শোষণ ক্ষমতা ফিরে পায়। ফলে ভিজে কাঁচগুলো আবার রঙিন হয়ে ওঠে।
