জোনাকি পোকা আলো পায় কোথা থেকে?
সাধারণত বসন্তের শেষে বা গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় গ্রামের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে জোনাকি পোকা উড়ে বেড়ায়। অন্ধকারে শুধু দেখা যায় কিছু আগুনের ফুলকি জ্বলছে আর নিভছে।

জোনাকি পোকার আলোর ফুলকি সৃষ্টির নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। জোনাকির পেটের পেছনের দিকে আলোক সৃষ্টির বিশেষ প্রত্যঙ্গটি থাকে। এ প্রত্যঙ্গ থেকে লসিফেরিন নামক এক ধরনের পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা শ্বাসনালি দ্বারা গৃহীত অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয়ে জ্বলে ওঠে। এই জারণ-প্রক্রিয়ায় প্রভাবকের কাজ করে লুসিফেরেজ নামক এক ধরনের এনজাইম। আলোর ফুলকি সৃষ্টির সময়কাল নিয়ন্ত্রিত হয় জোনাকির দেহের আলো সৃষ্টির প্রত্যঙ্গের স্নায়ুমণ্ডলের দ্বারা। আর ফুলকি প্রজ্বলনের স্থায়িত্ব। বিশ্বের অনেক প্রজাতির জোনাকি রয়েছে। আমেরিকায় এক ধরনের জোনাকির পরুষ শ্রেণী প্রতি পাঁচ সেকেন্ড অন্তর জ্বলে উঠে আর এর প্রতিক্রিয়ায় মাটিতে অপেক্ষমাণ স্ত্রীজাতীয় জোনাকি প্রায় দু সেকেন্ড পর জ্বলে ওঠে। এভাবে তারা পরস্পর মিলিত হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত আদান-প্রদান করে। আমেরিকার আরেক প্রজাতির স্ত্রীজাতীয় জোনাকি ভিন্ন কোনো প্রজাতির জোনাকির অনুকরণে আলো জ্বালে। এতে আকৃষ্ট হয়ে ওই নির্দিষ্ট প্রজাতির পরুষজাতীয় জোনাকি যেই না কাছে আসে, অমনি প্রথমোক্ত স্ত্রীজাতীয় জোনাকি তাকে আক্রমণ করে এবং খেয়ে ফেলে। তবে বেশিরভাগ জোনাকি ফুলের রেণু বা মধু খায় বা বলতে গেলে তেমন কিছু খায় না।
নদীর গতিপথ আঁকাবাঁকা কেন?

নদী পাহাড় থেকে নেমে সাগরের দিকে যায়। ঢালু পথ বেয়ে চলে নদী। চলার পথে বাঁধা পেলেই সে গতিপথ পরিবর্তন করে ঢালু পথ খুঁজে নেয়। বাঁধার কারণেই নদীর পথ আঁকাবাঁকা হয়। কিন্তু সমতলভূমিতে নেমে পথে দৃশ্যমান কোনো বাঁধা না থাকা সত্ত্বেও কেন সর্পিল গতিতে চলে নদী? এর কারণ হলো নদী তার চলার পথে নিজেই সৃষ্টি করে নিজের চলার বাঁধা নদীর স্রোতের প্রভাবে একদিকে তার তলদেশের মাটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, অন্যদিকে একই জায়গা আবার পলি পড়ে ভরাট হয়। এই প্রক্রিয়া ভারসাম্যপূর্ণভাবে চলতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত নদীর স্রোতের কোনো অসামঞ্জস্য সৃষ্টি না হয়। এ অবস্থায় যদি কোনো কারণে নদীর এক পাড়ে স্রোত বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়, তাহলে এই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নানা ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। নদীর যে ধারে স্রোত বেশি সেখানে ভূমিক্ষয় বেড়ে যায়, নদীর গভীরতা বাড়ে, স্রোতের বেগ বাড়ে। বিপরীতে নদীর অপর ধারে স্রোত কম থাকায় পলি জমতে থাকে বেশি, নদীর গভীরতা হ্রাস পায় এবং সেখানে স্রোতও কমে যায়। এ প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে নদীতে বাঁক সৃষ্টি হয়। এই প্রথম বাঁকটিই পরবর্তী বাঁক সৃষ্টির কারণ হয়ে ওঠে। বাঁকের বিপরীত পাশের তীরে স্রোত বেশি থাকে। এই তীব্র স্রোতের পানি সোজা গিয়ে বিপরীত দিকে, অর্থাৎ বাঁকের ভেতরের দিকের পাড়ে আঘাত করতে থাকে। ফলে ওপাশে আবার দেখা দেয় বেশি স্রোত এবং বিপরীত পাশে কম স্রোত। এবার প্রথম বাঁকের কিছু দূরে বিপরীত পাশে আরেকটি বাঁক সৃষ্টির প্রকিয়া শুরু হয়। এভাবে নদী তার চলার পথে ক্রমাগত বাঁক সৃষ্টি করতে থাকে।
সাপ কীভাবে শব্দ শোনে?

মানুষ বা অধিকাংশ স্তন্যপায়ী প্রাণীর মাথার দুপাশে দুটি কান রয়েছে। কিন্তু সাপের সে ধরনের কোনো কান নেই। মানুষের কানের তিনটি অংশ-বাইরের দৃশ্যমান অংশ, মধ্যম অংশ এবং একটি অভ্যন্তরীণ অংশ। যেকোনো শব্দ বাতাসে তরঙ্গ সৃষ্টি করে। মানুষের কান সেই তরঙ্গ থেকে শব্দ শুনতে পারে। কিন্তু সাপের বাইরের ও মধ্যম কান নেই, আছে শুধু অভ্যন্তরীণ কান। সে জন্য সাপ বাতাসে ভেসে আসা শব্দতরঙ্গ শুনতে পারে না। সাপ মূলত মাটির কম্পন থেকে শব্দ শুনে থাকে। এ জন্য তাদের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। সাপের মুখের ভেতর সূক্ষ এক ধরনের হাড় (প্রায় ক্ষেত্রেই এক জোড়া) থাকে। এই হাড় সাপের নিচের চোয়ালের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ কানের সংযোগ সাধন করে। চলার পথে সাপ প্রায়ই মাটিতে মুখ ছোঁয়ায়। সে সময় সাপ মাটির কম্পন সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট হাড়ের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ কানে পাঠিয়ে দেয়। এভাবে সাপ শব্দ শোনে।
অনেক উঁচু থেকে পড়লেও বিড়ালের কিছু হয় না কেন?

বিড়ালকে যত ওপর থেকেই ফেলে দেওয়া হোক না কেন, সে অবধারিতভাবে তার চার পায়ের ওপরই পড়ে এবঙ তার থাবার নরম তুলতুলে পেশি তাকে রক্ষা করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির থেকে। অন্য অনেক প্রাণীর তুলনায় বিড়াল এ ব্যাপারে অনেক বেশি দক্ষ। তার এ দক্ষতার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করে দুটি বিষয়। একটি হলো ওপর থেকে পড়ার সময় শূন্যে বিড়ালের শরীরকে পাক খাওয়ানোর অসাধারণ সক্ষমতা। আর দ্বিতীয় একটি ব্যাপার হলো বিড়ালের সবিধাজনক শারীরিক কাঠামো, যা থাকে পতনের আঘাত হ্রাসে সাহায করে। বিড়াল যেসব সময় ঠিক তার পায়ের ওপরই পড়ে, মাথা নিচু হয়ে পড়ে কখনো মাথা ভাঙে না, তার কারণ হলো বিড়াল ‘রাইটিং রিফ্লেক্সের’ (righting reflex) অধিকারী। এর অর্থ হলো ওপর থেকে পড়ার সময় বিড়াল বুঝতে পারে কোনটা নিচ আর কোনটা ওপর এবং সে অনুযায়ী সে তার শরীরকে প্রয়োজনমতো ঘরিয়ে ফিরিয়ে পাক খাইয়ে বা ডিগবাজি খাইয়ে এমনভাবে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে যেন মাটিতে সে তার চার পায়ের ওপর পড়ে। দ্বিতীয়ত, বিড়ালের মেরুদণ্ড অসাধারণ নমনীয়তার অধিকারী। শুধু তাই-ই নয়, বিড়ালের ‘কলার বোন’ বা গলার দুপাশের শক্ত হার দুটি নেই। এতে সুবিধা হলো সহজেই সে তার ঘাড় ও পা চারটা ঘোরাতে পারে। ওপর থেকে পড়ার সময় সে অনায়াসে তার চার পা ছড়িয়ে ও শরীরকে ফুলিয়ে তুলতে পারে। এতে তার ভরের তুলনায় শরীরের আয়তন অনেক বেড়ে যায় এবং এভাবে সে তার পতনের গতি কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। ফলে অনেক উঁচু থেকে পড়লেও বিড়াল ততটা ব্যথা পায় না।
