প্রথম পাতা » বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি » মাথায় যত প্রশ্ন (পর্ব ৫)

মাথায় যত প্রশ্ন (পর্ব ৫)

Questions in mind

আদা ঝাল লাগে কেন?

মুখরোচক রান্না করতে আদা না হলে আমাদের চলে না। আদার স্বাদ ঝাল, এর কারণ কি? আদার মধ্যে প্রয়োজনীয় তেল থাকে, এই তেলের ভেতর টারপিন জাতীয় জৈব যৌগও আছে অনেক। তবে Gingerol নামে একটি রাসায়নিক পদার্থ আছে বলেই আদা ঝাল লাগে।

টিভির আকার ঠিক করা হয় কিভাবে?

টিভির পর্দার প্রস্থ ও উচ্চতার অনুপাত ৪ ঃ ৩ বা ১ ঃ ৩৩৩। এই অনুপাতটিকে বলা হয় অ্যাসপেক্ট রেশিও। সাধারণ চলচ্চিত্রের জন্যেও সিনেমার পর্দার মাপে একই অ্যাসপেক্ট রেশিও ব্যবহার করা হয়। পর্দার প্রস্থ উচ্চতার চেয়েও তিন চতুর্থাংশ বেশি রাখা হয়। কারণ তাতে পর্দায় প্রতিবিম্বিত ছবির গতি ভালোভাবে দেখানো যায়। ছবিতে বিভিন্ন গতি যা দেখানো হয় তার বেশির ভাগই অনুভূমিক বা আড়াআড়ি দিক বরাবর। ফলে সেদিকে পর্দা বড় রাখা হলে দর্শক ছবি দেখে বাস্তবের গতির মত স্বাভাবিক স্বাদ পাবে। টিভির পর্দা ছোট-বড় যাই করা হোক না কেন অ্যাসপেক্ট রেশিও ঠিক রাখতে হবে। তাছাড়া টেলিভিশন ক্যামেরাও এই অ্যাসপেক্ট রেশিও মেনে ছবি পাঠায়। সুতরাং অ্যাসপেক্ট রেশিও ঠিক না রাখলে ছবির মানুষকে বেশি রোগা বা মোটা দেখাবে। অ্যাসপেক্ট রেশিওর মান ১-এর চেয়ে বেশি রাখলেই স্বাভাবিক গতি দেখানোর শর্ত পূরণ হয় বটে, তবে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে ১ ঃ ৩৩৩ অনুপাতটিই দর্শকদের স্বাভাবিক দৃষ্টির পক্ষে সবচেয়ে আরামপ্রদ।

আগুন লাগলে বাতাসের বেগ বাড়ে কেন?

আগুন লাগলে আগুনের তাপে বেশ কিছুটা অঞ্চল জুড়ে বাতাস গরম হয়ে ওঠে। গরম বায়ু ঠাণ্ডা বায়ুর চেয়ে হালকা [অর্থাৎ ঘনত্ব কম] বলে ওপরে ওঠে যায়। আগুন বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাতাস আরো গরম হয়, তার ঘনত্ব আরো কমে যায়। ফলে তার ওপরে ওঠার বেগ দ্রুততর হয়। যেখান থেকে গরম বায়ু উপরে উঠে সেই জায়গায় একটা আংশিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়। এই শূন্যতাকে পূরণ করার জন্য আশেপাশের বাতাস সেখানে দ্র€ত ধেয়ে আসে সে কারণেই কোথাও আগুন লাগলে বাতাসের বেগ আরো বেড়ে যায়। এতে আগুন আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। কারণ ধেয়ে আসা নতুন ঠাণ্ডা বাতাস আগুনকে অক্সিজেনের যোগান দেয়।

টিভি ক্যামেরায় কি ফিল্ম থাকে?

সাধারণ ক্যামেরায় ফিল্ম থাকে আমরা জানি। টেলিভিশনে ছবি দেখতে গেলেও টিভি ক্যামেরার প্রয়োজন হয়। কিন্তু টিভি ক্যামেরায় কি সাধারণ ক্যামেরার মত ফিল্ম থাকে? না, টিভি ক্যামেরায় ফিল্ম থাকে না। টিভি ক্যামেরার কয়েকটি অংশ আছে। ক্যামেরার প্রথমেই যে অংশটি থাকে সেটি হলো অপটিক্যাল লেন্সসিস্টেম। এর মধ্যে কতগুলো সূক্ষ্ম নিখুঁত লেন্সের সমষ্টি থাকে। ক্যামেরার যে দৃশ্যের ছবি ধরা হবে তা থেকে প্রতিফলিত আলো এই লেন্সসমষ্টির ওপর এসে পড়ে। লেন্সসমষ্টি সেই আলো যথাযথভাবে ফোকাস করে ফেলে দ্বিতীয় অংশ ‘ক্যামেরা টিউব’ এর ওপরে। ক্যামেরা টিউবই হলো টিভি ক্যামেরার প্রাণ। কারণ যে আলোক রশ্মি তার ওপরে এসে পড়ে তা থেকে উপযুক্ত বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি করে ক্যামেরার টিউব। ক্যামেরার টিউব নানা রকমের হয়। যেমন ইকনোস্কোপ, ইমেজ ডিসেক্টর, এমিট্রন, প্লাম্বিকন, বৈদ্যুতিক সংকেত ‘ইনপুট’ বা ‘নিবেশ’ হিসেবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় টিভি ক্যামেরার শেষ অংশ ‘প্রি-অ্যামপ্লিফায়ার’। প্রি-অ্যামপ্লিফায়ার থেকে যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাওয়া যায় তাকে আরো জোরালো ও নিখুঁত করার জন্য নানা অ্যামপ্লিফায়ার ও নিয়ন্ত্রণ বর্তনীর মধ্যে দিয়ে চিত্র প্রেরক যন্ত্রে নিয়ে যাওয়া হয়। টিভি ক্যামেরার ক্যামেরা টিউব ও প্রি-অ্যামপ্লিফায়ারকে কাজ করানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা থাকে।

পারমানবিক বোমা কিভাবে কাজ করে?

ইউরেনিয়াম ২৩৫ কে নিউট্রন দ্বারা আঘাত করলে নিউট্রন ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করে ও নিউক্লিয়াস ভেঙে যায় এ প্রক্রিয়াকে ফিশন বিক্রিয়া বলা হয়। ফিশনের ফলে অল্প পরিমাণ ইউরেনিয়াম হতে প্রচন্ড শক্তির উদ্ভব ঘটে। ফিশনে নতুন নিউট্রন উৎপন্ন হয় ও তা এ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। এ চেইন বা রি-অ্যাকশান চলতে থাকে ও অতি অল্প সময়ে প্রচন্ড শক্তি নির্গত হয়ে প্রচন্ড বিষ্ফোরণ ঘটায়।

প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান কি কি?

প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় সবটুকুই মিথেন। তবে উৎস অনুয়ায়ী তার উপাদান বিভিন্ন। সাধারণত প্রাকৃতিক গ্যাসে ৯৪% মিথেন এবং উহার সাথে সামান্য পরিমান ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, জলীয়বাষ্প হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড মিশ্রিত থাকে।

বয়স্ক ব্যক্তিদের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত ?

হৃদপিন্ডের সংকোচনের সময় ধমনীতে যে চাপ থাকে, তাকে সংকোচন চাপ বলে। একে সিস্টোলিক চাপও বলা হয়। আবার হৃদপিন্ডের প্রসারণের সময় ধমনীতে যে চাপ থাকে তাকে প্রসারণ চাপ বলে। এটি ডায়াস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। বয়স্ক ব্যক্তিদের সিস্টোলিক চাপ ১০০ থেকে ১৪০ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ থেকে ৯০ই স্বাভাবিক রক্তচাপ।

চুল বাড়ে কেন?

চুল বা লোমের গোড়া আমাদের শরীরের ও মাথার ত্বকে লেগে থাকে। চুলের গোড়ায় থাকে লোম কূপ, এই কূপ হল ছোট ছোট অনেক থলির মত। যা থাকে ত্বকের অনেকটা ভেতরে। এই হানির মুখগুলো খোলা থাকে। কূপের একেবারে তলের দিকে চুলের কোষ গুলো বাড়তে থাকে। এ কোষ গুলো চুলের অতি ছোট ছোট অংশ। কোষ গুলো যত বাড়তে থাকে চুলও তত বাড়ে। যদি লোম থলিতে বা কৃপ কোষগুলো বৃদ্ধি না ঘটে, তবে চুলও বাড়ে না।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন

লেখক পরিচিতি:

S M Mukul
এস এম মুকুল
লেখক-কলামিস্ট, হাওর ও কৃষি অর্থনীতি বিশ্লেষক

ইতল বিতলে আপনার লেখা আছে?আজই লিখুন



আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *